আদি-অনন্ত শেষ যুদ্ধে, কাঁটায় মুকুটে

আদি-অনন্ত শেষ যুদ্ধে, কাঁটায় মুকুটে
সৌভিক ঘোষ

১৯৯২ এর ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেরদিন। বিশাল ফাঁকা এমসিজিতে একা দৌড়োচ্ছেন ইমরান। গোটা বিশ্বকাপটা ইনজেকশন নিয়ে খেলছেন, বল করতে পারেননি এক ওভারও। টিম কার্যত বিভক্ত। সক্রিয় মিয়াঁদাদ গোষ্ঠীর সাথে সমসক্রিয় গোটা পাকিস্তান মিডিয়া। এর মধ্যেই এক রিপোর্টার এলেন। আগে থেকেই appointment করা ছিল ইমরানের সাক্ষাৎকার নেবেন, তিনি প্রশ্ন করার আগেই ইমরান জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘ভালো করে দেখো তো শেয়াল-টেয়াল দেখতে পাচ্ছ নাকি চারপাশে?’’ রিপোর্টার তো অবাক অত্যাধুনিক এমসিজিতে শেয়াল কিভাবে আসবে! সে কার্যত বিমূঢ়। ইমরান স্ট্রেচিং করছিলেন, একটু সময় নিলেন তারপর উঠে বললেন, ‘‘ আমাদের মিডিয়ার কথা বলছি। হারলে সব শেয়াল বেরিয়ে আসে অবিশ্যি এখন বেরোবে কিভাবে আমরা যে ফাইনালে!’’ ক্রিকেটের সর্বকালীন আবেদনময় রাজপুত্রের সাথে অমিল বিশেষ নেই পর্তুগালের ছেলেটিরও। ধেয়ে এসেছে নিরন্তর সমালোচনা ও কটূক্তি। কালের নিয়মে দেশ ও ক্লাব যেসব দাবি
করেছে অন্য কেউ হলে হয়তো সেই চাপের মুখে গুঁড়িয়ে যেত কিন্তু যার হিমোগ্লোবিনে লড়াইয়ের মাদকতা সে রক্তাক্ত হবে, উঠে দাঁড়াবে, ঘুরে দাঁড়িয়ে নাটমেগ করবে যাবতীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে এ আর নতুন কি। সবুজ মাঠের সমান্তরালে তাকে খেলতে হয়েছে অন্য এক মাঠে যেখানে প্রত্যাশা আর সমালোচনা বিদ্ধ করতে এসেছে ইনজুরি মিনিটেও। তবে এবার ওয়ান লাস্ট ডান্স। জীবনের শেষ বিশ্বকাপ। তাই আজ বরং সব তর্কই গান হয়ে উঠুক।


নর্থ ম্যাসিডোনিয়াকে হারানো পর্তুগালের সামনে যেমন বিশ্বকাপ খেলার রাস্তা খুলে দিয়েছে, তেমনই রোনাল্ডোর সামনে খুলে গেছে একাধিক রেকর্ডের দরজা। এখনও পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপ
খেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছেন রোনাল্ডো। এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে ১৭টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যার মধ্যে জয় এসেছে ছয়টি ম্যাচে, পাঁচটি হার এবং ছটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত সাতটি গোল করে ফেলেছেন রোনাল্ডো। গত অর্থাৎ ২০১৮ বিশ্বকাপেই ছিল চারটি গোল। বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম হ্যাটট্রকটাও রাশিয়া বিশ্বকাপে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে স্পেনের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রোনাল্ডো।


এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে নামলেই পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলা হাতে গোনা খেলোয়াড়দের তালিকায় ঢুকে পরবেন তিনি। এখনও পর্যন্ত পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলেছেন, ইতালির গোলকিপার জুয়ানলুইগি বুঁফ, মেক্সিকোর গোলকিপার রাফায়েল মারকুয়েজ, জার্মান মিডিও লোথার ম্যাথিউস ও মেক্সিকোর গোলকিপার অ্যান্টোনিও কারভাহাল। এরমধ্যে বুঁফ ২০০৮ সালের ইতালির দলে থাকলেও একটিও ম্যাচ খেলেননি।
পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি একক ভাবে রোনাল্ডোর সামনে দুটি রেকর্ড গড়ার সুযোগ। এখনও পর্যন্ত রোনাল্ডোই একমাত্র ফুটবলার যিনি নয়টি মেজর টুর্নামেন্টে অন্তত একটি গোল করেছেন। যার মধ্যে আছে পাঁচটি ইউরো কাপ ও চারটি বিশ্বকাপে। কাতার বিশ্বকাপে একটি গোল করলেই টানা দশটি মেজর টুর্নামেন্টে গোল করার রেকর্ড গড়বেন তিনি।পাশাপাশি পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সব থেকে বেশি গোল করার হাতছানিও থাকছে রোনাল্ডোর সামনে। বিশ্বকাপে ৯টি গোল করে প্রথম স্থানে আছেন ইউসেবিও। সাত গোল করে দ্বিতীয় স্থানে রোনাল্ডো।
তবে বাকি সব ফিকে হয়ে নিজের যাবতীয় স্বকীয়তা নিয়ে উজ্বল হয়ে উঠবেন তিনি যদি জীবনের শেষ বিশ্বকাপ মঞ্চে পর্তুগালকে পৌঁছে দিতে পারেন সাফল্যের প্রান্তিক স্টেশনে।


সব প্রশ্নের উত্তর দেবে সময়। আপাততঃ অপেক্ষা কিছুদিনের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *