বুলডোজারের মুখে ব্যারিকেডের “উত্তর”

বুলডোজারের মুখে ব্যারিকেডের “উত্তর”

সন্দীপ আচার্য্য

২০১১ সালের পর থেকেই আমাদের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উঠেছে চোরেদের স্বর্গরাজ্জ্য। গরু, কয়লা, বলি হয়ে এরা পৌঁছেছে শিক্ষাক্ষেত্রে। প্রতিদিন যোগ্যদের বঞ্চিত করে শুধুমাত্র পয়সার বিনিময়ে মেধাকে বাইপাস করে এরা অযোগ্যদের হাতে তুলে দিচ্ছে শিক্ষকের চাকরি।
শিক্ষা ব্যাবস্থাকে লাটে তুলে দিয়ে শিক্ষা দপ্তরের একাধিক মন্ত্রী – আমলারা এখন জেলের ভেতর, যেটকু ও বাইরে আছে তারাও দেদার দুর্নীতির সাথে সকাল সন্ধ্যে ঘর করছেন।
এমনকি, গ্রাম বাংলার গরীব ছাত্রছাত্রীদের একমাত্র ভরসা যেখানে সরকারি স্কুল, সেখানে প্রতিদিন রাজ্য জুড়ে হাজার হাজার প্রাইমারি স্কুল বন্ধের দিকে হাঁটছে রাজ্য সরকার। লাফিয়ে লাফিয়ে ফিজ বাড়ছে প্রতিদিন।”স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড” নাম দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ঘাড়ে ঋণের বোঝা চাপতে চাইছে নির্লজ্জ সরকার। আমাদের রাজ্য জুড়ে কোভিড শেষ হয়ে যাবার পরেও পানশালা – হোটেল সব খোলা থাকলেও খোলা হয়নি স্কুল-কলেজ, কারণ মমতা ব্যানার্জির এই সরকার জানে শিক্ষাঙ্গন মানেই মুক্ত চিন্তার চাষ। আর ওরা সেই কারনেই এড়িয়ে যেতে চাইছিলো শিক্ষাক্ষেত্রকে। কিন্তু আমাদের লাগাতার আন্দোলনের চাপেই স্কুল – কলেজ খুলতে বাধ্য হয়েছে সরকার।

মাধ্যমিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি একটা বড়ো অংশের ছাত্র-ছাত্রী রা ড্রপ আউট হয়ে গেছে। যারা পরীক্ষাতেই বসলো না, অথচ সরকার চরম ভাবে উদাসহীন। পরীক্ষার রেজাল্টের ক্ষেত্রেও আমরা দেখেছি একটা বড়ো অংশে পাসের হার কমেছে। পরীক্ষার্থীদের নম্বরের শতাংশের ক্ষেত্রেও বেশ খানিকটা কমেছে, এই দায় ও সরকারের কারণ শিক্ষাক্ষেত্রের সমস্ত স্ট্রাকচার কে ভেঙে, শিক্ষা ব্যবস্থা কে ধ্বংস করে চলেছে প্রতিদিন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বৈচিত্র্য আর ঐতিহ্যের সাক্ষী বিদ্যালয়ের পোশাক। সেই বৈচিত্র্যকে ভেঙে দিয়ে তুঘলকি কায়দায় মাননীয়ার পছন্দের রঙে বেঁধে ফেলতে চাইছে এই রাজ্যের শৈশবকে। অন্যদিকে “সর্ব শিক্ষা অভিযান” এর মতো উদ্যোগকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতিদিন পয়সার বিনিময়ে শিক্ষা কে বেচেঁ দিতে চাইছে এই রাজ্যের সরকার।

“একা রামে রক্ষে নেই সুগ্রীব দোসর”।
দেশ চালাচ্ছে একদল চূড়ান্ত সাম্প্রদায়িক শক্তি। যাদের হাতে লেগে আছে বহু দাঙ্গায় সাধারন মানুষের রক্ত। নরেন্দ্র মোদী দের জামানায় তাই দেশ জুড়ে চলছে দ্বেস ছড়িয়ে দেওয়ার এক অদম্য চেষ্টা। শিক্ষাক্ষেত্রও কোনো মতেই তার বাইরে না। প্রতিদিন স্কুল বেঞ্চগুলোকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাঙতে চাইছে দেশের সরকার। শিক্ষা কে পণ্যে পরিণত করে আদানি, আম্বানিদের হাতে লাভজনক ব্যাবসা হিসেবে শিক্ষাকে তুলে দিতে চাইছে নরেন্দ্র মোদীরা। এর পাশাপাশি পাঠ্য পুস্তক থেকে রোজ বাদ পড়ছেন ক্ষুদিরাম বসু দের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামী রা। তার পরিবর্তে সেখানে জায়গা হচ্ছে মোদী দের গুরু, ব্রিটিশ এর কাছে মুছলেখা দেওয়া সাভারকার দের।
কখনো নিউ এডুকেশন পলিসি র নাম করে অথবা শিক্ষাখাতে লাগাতার ব্যায় বরাদ্দ কমিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা হচ্ছে শিক্ষা কে বড়লোক, পুঁজিপতি দের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা। প্রতিদিন আর.এস.এস এর মতাদর্শ কে বইয়ের পাতায় ঢুকিয়ে চ্যাম্পিয়ন করবার প্রচেষ্টা এবং সাধারন, দরিদ্র মানুষকে শিক্ষা থেকে দূরে রাখতে চাইছে এই দেশের সরকার। আঘাত যেমন আছে, প্রতিরোধের মিছিলও দীর্ঘতর হচ্ছে রোজ। জেলা জুড়ে স্কুল ছাত্ররা নিয়মিত দুই সরকারের বিরুদ্ধে স্কুলের দেওয়ালে লিখছে নিজেদের কথা। স্কুলের দাবি দাওয়া নিয়ে সরব হচ্ছে প্রতিদিন। মাধ্যমিক ও উচচমাধ্যমিকের বিশেষ স্থান অধিকার করা ছাত্র – ছাত্রী রা টিভির পর্দায় বলছে নিজেদের বন্ধু দের কথা। সমাজের কথা।
এরকম একটা পরিস্থিতি তে দাড়িয়ে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা কমিটির স্কুল ছাত্র কনভেনশন।
কনভেনশন মঞ্চ এমন একজন ছাত্রীর নামে, “তিথি দলুই” রাজ্য সরকারের ভাওতাবাজির কবলে পড়ে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে লোন না পেয়ে যাকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছিলো। কনভেনশনের নগর এমন একজন ছাত্রের নামে, যাকে শিকার হতে হয়েছিলো জাতিভেদ প্রথার, তথাকথিত উচুঁ জাতের মানুষের জল খাবার পাত্র থেকে জল খাওয়া অপরাধে যাকে খুন হয়ে যেতে হয়।


আমাদের লড়াই এই সমস্ত জাতি ভেদ প্রথা, শিক্ষায় দুর্নীতি এবং শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরনের বিরুদ্ধে, কনভেনশন মঞ্চ থেকে এই প্রজন্মের স্কুলের এস এফ আই কর্মীরা শপথ নেবে এই লড়াইয়ে আরো বেশি সংখ্যক ছাত্র – ছাত্রীদের, আমাদের বন্ধুদের সংগঠিত করে এই লড়াই অব্যাহত রাখার শপথ। এই লড়াই আমরাই জিতবো, জিতবই…

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *