প্রতিরোধের মাটিতে দিনবদলের শপথ করো
– দীপ্তজিৎ দাস
এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দেশের আগামী প্রজন্ম। তারুণ্যের আধিক্য যে দেশে আনতে পারতো নতুন সৃষ্টির জোয়ার সেদেশই আজ সরকারের ভ্রান্ত নীতিতে শিক্ষা, কাজের আকালে পরিণত হতে চলেছে হতাশার মৃত্যুপুরীতে।
১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর ১০০ বছর ধরে ভারতবাসী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রয়াস চালিয়েছে কিন্তু সেই প্রতিরোধ দানা বাঁধেনি। কার্ল মার্কসের কথায় ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহই এদেশের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধ। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ক্ষোভ, ঘৃণা, জ্বালার বারুদ দাবানল হয়ে উঠেছিল এই জেলার ব্যারাকপুরের মাটিতে। এর মধ্যেই সীমিত সাধ্যে বাঁশের কেল্লা গড়ে তিতুমীরের লড়াই ব্রিটিশদের বুঝিয়ে দিয়েছিল দেশের মানুষ পরাধীনতার গ্লানি মেনে নেবে না। উত্তর ২৪ পরগনা মানে সুভাষ বোসের পদচারণা,ভগৎ সিংয়ের অজ্ঞাতবাসের নিরাপদ আশ্রয়।দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বাঁকে লেগে আছে এই জেলার নাম।


স্বাধীনতার ৭৬ বছর পেরিয়েও পূরণ হয়নি সেদিনের ভারত নির্মাণের আকাঙ্ক্ষাগুলো। বিভাজনের বিষ ভাঙছে ছাত্রদের একতা।মিলেমিশে বাঁচতে শেখানোর ক্লাসঘর থেকে উঠে আসছে বিদ্বেষের সুর।জাতীয় শিক্ষানীতির নামে সকলের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নিতে অগ্রসর দেশের বিজেপি সরকার।রাজ্য জুড়ে বন্ধ হচ্ছে হাজার হাজার স্কুল। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার শূন্য আসন।তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি,নৈরাজ্যের পরিণতিতে রাজ্য জুড়ে ব্রাত্য শিক্ষা।
এদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রতিটা গতিধারায় ভেসে আছে উত্তর ২৪ পরগনার নাম। এই মাটি শহীদের রক্তে রাঙা। সত্তরের নিকষ কালো রাতের শেষ প্রহরে বুলেটের সামনে বুক পেতে নিজের জীবনের বিনিময়ে মানুষকে নতুন ভোরের সূর্য দেখানো রঞ্জন গোস্বামীর জেলা।এলাকায় অসামাজিক কাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে টিটাগড় স্টেশনের ঢিলছোড়া দূরত্বে খুন হয়ে যাওয়া ফিরোজ আনসারীর জেলা। টেস্ট পেপারের দাবিতে রাস্তায় নেমে গাইঘাটায় শহীদ হয়ে যাওয়া অমিত দাসের জেলা।সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে চোরাচালানের প্রতিবাদ করে নিথর হয়ে যাওয়া অনুপ মিশ্রের জেলা। এসএফআই প্রতিষ্ঠারও আগে কেরোসিন ও রেশনের দাবিতে আন্দোলনে নেমে লাশ হয়ে যাওয়া ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র নুরুল ইসলামের জেলা।
শহীদ নুরুল ইসলামের নামাঙ্কিত কলেজেই সিসিটিভি ভাঙচুর ও কলেজের সম্পত্তি লুঠপাট করে ক্যাম্পাসকে দুষ্কৃতীদের আতুরঘর বানিয়েছে শাসকদলের ছাত্র সংগঠন।একই পরিস্থিতি জেলার অন্যান্য কলেজগুলোর। কলেজমুখো হচ্ছে না নতুন প্রজন্ম।জেলাজুড়ে বন্ধ কয়েকশো স্কুল।বসিরহাট, বনগাঁর কৃষক পরিবারে,ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক মহল্লায় উঁকি মারলেই দেখা মিলবে ড্রপ আউট হওয়া স্কুলছাত্র, বাল্যবিবাহের শিকার হওয়া ছাত্রীর।দুই ফুলের চক্রান্তে ইতিউতি জ্বলে উঠছে দাঙ্গার দাবানল।
বদল হবেই।সমাজের উপর দিয়ে অত্যাচারের বুলডোজার চালিয়ে দেওয়া মেনে নেবেনা ছাত্রসমাজ। দিন বদলের লড়াইয়ে তারাই আনবে টাটকা বাতাস। তার মহড়া চলেছে জেলাজুড়ে।ধমক,চমক,হামলা রুখেই উঠেছে প্রচারের ঢেউ। ছাত্র সমাজ বিদ্রোহের পাঠ ভুলে যায়নি। আছড়ে পড়বে ১লা অক্টোবর বারাসাতের মিলনী ময়দানে। ঐতিহাসিক সমাবেশ হবে। ঘুরে দাঁড়ানোর সমাবেশ। লড়াইয়ের বার্তা দেওয়ার সমাবেশ। দুই সরকারের শেষের দিন লেখার শপথ নেওয়ার সমাবেশ আগামী ১ তারিখ বারাসাতের মিলনী ময়দানে।

