অশ্রু, রক্ত, ঘাম আর শপথ …

অশ্রু, রক্ত, ঘাম আর শপথ …

আকাশ কর

কমরেডস,
আগামী ১ লা অক্টোবর, ২০২৩ আমরা বারসাতের মিলনী ময়দানে ঐতিহাসিক জেলা সমাবেশে মিলিত হতে চলেছি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সমাবেশের গুরুত্ব অপরিসীম। অতীতের কালো সময়ে যেমন উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ছাত্র-ছাত্রী কমরেডরা রাজ্য তথা দেশের ছাত্র আন্দোলনের দিক নির্দেশ করে এসেছে, এবারও তার অন্যথা হবে না। আমাদের মনে আছে ১৯৬৬ সালের কথা – রাজ্য জুড়ে খাদ্যের হাহাকার, খাদ্যের অধিকার ছিনিয়ে নিতে লাল ঝান্ডার আন্দোলন, সামনের সারিতে ছাত্ররা। কেরোসিনের দাবিতে চলা মিছিলে চলল গুলি – শহীদ হলেন ছাত্র কমরেড নুরুল ইসলাম। তবু আন্দোলন থামল না, পতাকা নামল না। কাঁধে তুলে নিল এক ঝাঁক নতুন মুখ – উঠে এলেন সুভাষ চক্রবর্তী, রঞ্জন গোস্বামীরা। দমদম বেলঘড়িয়া থেকে সুদূর বনগাঁ বসিরহাট ছাত্রদের অধিকার, ভুখা মানুষের অধিকারে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন হয়ে উঠল একমাত্র নির্ভরযোগ্য নাম। পুরষ্কার স্বরূপ প্রাণ গেল একের পর এক কমরেডের, ৭৭ এ শহীদ হলেন অবিভক্ত ২৪ পরগণার প্রথম সম্পাদক কমরেড রঞ্জন গোস্বামী। সেই ইতিহাস বুকে নিয়ে আমরা বর্তমান সময়ের মুখোমুখি হতে চালছি। ২০১১ র পর থেকে অঞ্চলে অঞ্চলে তৃণমূলের হাড় হিম করা সন্ত্রাস, ২০১৫ র পর থেকে কলেজে কলেজে বন্ধ ইউনিয়ন ইলেকশন, এসেফাই করার অপরাধে এলাকা ছাড়া একের পর এক কমরেড – তাও হাল ছাড়েনি সংগঠন। চোখ চোখে রেখে হয়েছে লড়াই, মার খেয়ে ময়দান ছাড়েনি, ফিরিয়ে দিয়েছ পালটা মার। একের পর এক স্কুল কলেজে গড়ে উঠছে সংগঠন। ফলে ছাত্র স্বার্থে উঠে আসছে একের পর দাবিদাওয়া। কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া শিক্ষানীতি এবং সেই অনুসারে রাজ্য সরকারের ভান্ত্র শিক্ষানীতিতে শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। পকেটের জোর হয়ে উঠছে শিক্ষার একমাত্র মাপকাঠি। যেখানে স্বাধীনতার ৭৬ বছর পরও ভারতের বড় অংশের মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সেখানে অনেক ছাত্রছাত্রীর কাছে ইন্টারনেট নির্ভর পড়াশোনা আকাশকুসুম ভাবনা। কেবল ডেটা প্যাক ভরাতে না পাওয়ায় পড়াশোনার মূলস্রোত থেকে ছিটকে পড়েছে বহু ছাত্র-ছাত্রী। আমাদের জেলা সাক্ষী থেকেছে ভয়াবহ দাঙ্গা এবং বিদ্বেষের। এই বিষয়ে লাগাতার আন্দোলনে নেমেছে ভারতের ছাত্র ফেশারেশন। অথচ হেলদোল নেই ৫-৭ বছর আগে কলেজে কলেজে নির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ছাত্র ইউনিয়নগুলির৷ বরং বহিরাগতের অবাধ আগমনে কলেজে কলেজে বাড়ছে র‍্যাগিঙের ঘটনা। অথচ রাজ্য সরকারের না আছে ইউনিয়ন নির্বাচন করানোর সদিচ্ছা না আছে বামফ্রন্ট আমলে পাশ হওয়া র‍্যাগিং বিরোধী আইন লাগু করার ক্ষমতা। অথচ ভারতের ছাত্র ফেডারেশন উত্তর ২৪ পরগণা জেলা কমিটির ছাত্ররা যতবার আন্দোলনে শামিল হয়েছে, মুখোমুখি হয়েছে কঠোর প্রশাসনিক প্রতিকূলতার। ২০২৩ সালের ১১ ই এপ্রিল ডি এম অফিস অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে দশ দিন জেল খাটে ৫ ছাত্র কমরেড। দিন কয়েক আগে ১ লা অক্টোবরের সমাবেশের প্রচার কালে তৃণমূলের সন্ত্রাসের মুখোমুখি হয় বরাহনগর, অশোকনগর বারাসাতের কমরেডরা। এছাড়াও জেলার নানা প্রান্তে আক্রান্ত আমাদের কমরেডরা। তবু মাঠ ছাড়েনি, ফিরিয়ে দিয়েছে পালটা লড়াই। তাই আজ জেলার প্রতিটি কোনায় পৌঁছে গেছে শ্বেত পতাকা৷ আবার নতুন করে জেগে উঠছে সংগঠন। আন্দোলনের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে গলি থেকে রাজপথ। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমাদের জেলার সমাবেশ হতে চলেছে। জেলার সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের কাছে আমাদের আহ্বান তোমরা দলে দলে বারাসাতের মিলনী মাঠে এসে সমাবেশ সফল কর। যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এখনো, সেই সব উত্তর খুঁজব আমরা একসাথে। শুরু হোক আগামী রবিবার, মিলনী মাঠের সমাবেশ থেকেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *