Gen Z ও trending …
• শাম্বদিত্য ঘোষ
বলতে গেলে 1997 থেকে 2012 সালের মধ্যে যাদের জন্ম তারা প্রত্যেকেই Gen Z বা Generation Z এর মধ্যে পড়ে। তবে এই Gen Z প্রজন্মের বৈশিষ্ট্যগুলো কার্যত 2005 সালে যাদের জন্ম, তাদের থেকে বিশেষ করে বোঝা যায়। তবে অনেকের কটাক্ষ বা ট্রোলিং এর মধ্যে পরে এই প্রজন্ম। অনেকে এই প্রজন্মের রাজনৈতিক বোধ শক্তি নিয়েও প্রশ্ন করে। তাদের ট্রেন্ডিংয়ে থাকাটাকে নিয়ে কৌতুক করে। তবে বিষয়টা আসলে এইরকম নয়। এখন এই সময় দাঁড়িয়ে যাদের জন্মানোর পরে তারা কার্যত আশে পাশের পরিবেশের পাশাপাশি , একটা প্যারালাল ইউনিভার্স স্বরূপ সোস্যাল মিডিয়ার জগতেও আবদ্ধ। এখন প্রতিটা মানুষের কার্যত দ্বিতীয় ঘর , নিজের আইডেন্টিটি এই সোস্যাল মিডিয়া। সেইখানে দাঁড়িয়েই কার্যত এই গোটা GEN Z প্রজন্মের মস্তিষ্ককে পরিচালনা করতে চাইছে, দেশ আর রাজ্যের শাসক দল। তারা প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকা খরচ করছে এই সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের উপর। তারা হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, ধর্মে ধর্মে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। প্রতিটা নিউজফিডের কমেন্ট বক্স গুলোতে কার্যত তাদের আধিপত্য। যেটা খুললে বোঝা যাবে, কার্যত একটা মিথ্যা কথা বলা, হেট স্পিচ ছড়ানোটা তারা একটা ট্রেডিংয়ে পরিণত করার চেষ্টা চলছে, যাতে করে এই দেশের এই জেন জেড প্রজন্মের মধ্যে এই বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিতে পারে। তারা অর্ধসত্য ইতিহাসকে, পুরাণের গল্পকে কার্যত ইতিহাস বলে চালাচ্ছে। তারা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মধ্যেও ভাগাভাগি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা এই পুরো কার্যক্রমকে প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে দিয়ে এই প্রজন্মের মস্তিষ্কে ইনজেক্ট করার কাজ করছে। অন্যদিকে এই দেশের দক্ষিণপন্থী শক্তিরা কার্যত ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র রাজনীতি তুলে দেওয়ার পিছনে সাংঘাতিক ভুল যুক্তির সমন্বয়ে কার্যত অরাজনীতির প্রচার করছে। অর্থাৎ একটা গোটা Gen Z প্রজন্মের ছেলে মেয়েদেরকে রাজনীতি বিমুখ করে তুলছে। রামায়নের লঙ্কার রাজা রাবণের সাথে তুলনা করে, খালি নিজের টুকু বুঝে নিতে বলছে। কিন্তু এই যারা এইসব কোটি টাকার প্রজেক্ট নিয়ে Gen Z প্রজন্মের মাথার লিজ নেওয়ার চেষ্টা করছে, তারা জানে না, যে এই সময় দাঁড়িয়ে নিজের টুকু বুঝে নেওয়ার সময়, রাজনীতির বিমুখতার প্রসঙ্গে এই Gen Z প্রজন্ম তারা দেশের বুকে ঘটে চলা যেকোনো অত্যাচারের বিরুদ্ধে সম্প্রতিকালে সব থেকে বেশি ভোকাল হয়েছে। তারা কথা বলছে, আর.জি. কর কান্ডে স্কুলের সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছেলেমেয়েরা সব থেকে বেশি প্রতিবাদ মুখর হয়েছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাটা তাদের ট্রেন্ডিং হয়েছে। এক বন্ধু, তার বন্ধুর জন্যে যেকোনো প্রয়োজনে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। হাসপাতালে কার্যত রক্তের অভাবে ছুটে যাচ্ছে। ‘ রেড ভলেন্টিয়ার ‘ এর মধ্যে দিয়ে সব থেকে বেশি এই Gen Z প্রজন্ম বামপন্থীদের সাথে যুক্ত হয়েছে। কার্যত এই প্রতিবাদী আওয়াজকে শাসক দল প্রতি পদক্ষেপে ভয় পাচ্ছে। আর ঠিক সেখানেই শুরু হচ্ছে অনুদানের নামে, টাকা দেওয়া, এটা দেওয়া, ওটা দেওয়া। অর্ধেক স্কুল, কলেজে শিক্ষক নেই, শিক্ষার পরিকাঠামো ক্রমেই ভেঙে পড়ছে। স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কলেজে প্রতিনিয়ত স্নাতকের সংখ্যা কমছে। স্নাতকোত্তর প্রায় উঠে যাওয়ার পথে, বেশিরভাগ কলেজে। বি.এডের মতোন খুবই গুরুত্বপুর্ন প্রফেশনাল কোর্সের কোনো দুই চারটে বাদে কোনো সরকারি কলেজ নেই। মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে বেসরকারি কলেজ থেকে প্রায় প্রতিটা ছেলেমেয়েকে বিএড করতে হচ্ছে। পিইচডি করতে গেলে কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক করে তাদের সাম্মানিক দিচ্ছে না। এই শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে Gen Z প্রজন্মের অর্ধেক ছেলেকে সরকার ভাবছে খালি ফোন কেনার টাকা দিয়েই মুখ বন্ধ করে রাখবে, ভুল ভাবছে। এই Gen Z প্রজন্ম যারা এই হিংসার পরিবেশের মধ্যে ভালোবাসা খোঁজে, তারা জানে এই মৃত বন্দরে কি করে ফুল ফোঁটাতে হয়। এই প্রজন্মের বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরাই নিজেরা বিভিন্ন স্বেচ্ছা সেবক সংস্থা তৈরি করে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। উন্নত প্রযুক্তির মধ্যে দাঁড়িয়ে যারা এখনো নিজের মধ্যে ডুবে না গিয়ে রাস্তায় স্লোগান তুলতে জানে।
তারা এই বাংলার বুকে আঠারো নামিয়ে আনতে জানে। ওদের কাছে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা ট্রেডিং, ওরা ‘ নফরতের বাজারে, ভালবাসার দোকান খুলতে জানে ‘

