শিক্ষা বাঁচাও, বাংলা বাঁচাও

শিক্ষা বাঁচাও, বাংলা বাঁচাও

বিতান রাউত



এই যে আমরা কথায় কথায় বাংলা বাঁচানোর আওয়াজ তুলি,বাংলা কি বেঁচে নেই? না নেই। একটা মানুষকে মাথা উঁচু করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য প্রয়োজন মেরুদন্ড, আর আমাদের সমাজের মেরুদন্ড হল সমাজের শিক্ষাব্যবস্থা। ২০১১ সালের পরর্বতী সময় থেকে এই বাংলার তৎকালীন সরকার অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বারংবার শিক্ষাক্ষেত্রে আঘাত করে চলেছে। সে শিক্ষা দূর্নীতি হোক বা প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রীর বান্ধবীর ফ্ল্যাট থেকে শিক্ষা দূর্নীতির কোটি কোটি টাকা হোক কিংবা স্কুল গুলোতে শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে পড়াশোনার কাজ বন্ধ থাকা। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সরকার ও তাদের নেতারা দায়ী। এরা এই বাংলার মেরুদন্ড অর্থাৎ শিক্ষা ব্যবস্থার বিরোধীতা করে, কিন্তু আমরা এই সিস্টেম এর বিরুদ্ধে লড়াই করছি এবং যতদিন সিস্টেম বদলাতে না পারছি ততদিন লড়াই জারি থাকবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে কি হলো তা নিয়ে সরকারের মাথা ব্যাথা নেই,থাকবেই বা কেনো? ওরা চায়না সমাজে শিক্ষার প্রসার।আজ থেকে বহুবছর আগে সত্যজিৎ রায় তার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেখিয়েছিলেন, হিরকের রাজা শিক্ষা চায়না,হিরকের রাজা বলতেন “ওরা যত বেশি জানবে, তত বেশি প্রশ্ন করবে”, অর্থাৎ রাজা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে ভয় পান।


ঠিক তেমনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অর্থাৎ হিরকের রানি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে ভয় পায়।ওরা চায়না বাংলার মানুষের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে। শিক্ষার প্রসার না হলে ওদেরই ভালো, সাধারণ মানুষ রুটি রুজির কথা ভুলে ‘হিন্দু-মুসলিম’, ‘মন্দির-মসজিদ’এবং ‘জাত-পাত’ এসব নিয়েই মেতে থাকবে। বর্তমানে এটাই হচ্ছে এবং রাজ্য সরকারের হাত শক্ত করতে সহায়তা করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। বাংলা জুড়ে দুই ফুল মিলে মানুষকে ধর্মের নেশা ধরিয়ে ভুলিয়ে দিতে চাইছে হকের দাবি গুলো।কেন্দ্রের চাপিয়ে দেওয়া নয়া শিক্ষানীতি অনায়াসে গ্রহণ করে নিল এ রাজ্যের সরকার, যতই লোক দেখানো বিরোধিতা করুক।প্রথম দিন থেকে আমরা এই NEP এর বিরোধিতা করেছিলাম, এখনো করছি। দিনের পর দিন রাজ্য তথা দেশ জুড়ে গিগ শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছাত্র। তারা কেউ নিজেদের পড়াশোনার খরচ চালাতে বা অর্জন করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই পথ বেছে নিয়ে বাইক বা সাইকেল নিয়ে দৌড়াচ্ছে দুটো টাকার জন্য, সরকারের ভ্রক্ষেপ নেই। ড্রপআউটের সংখ্যা বাড়ছে তাও হুশ নেই,সরকারি স্কুলগুলোতে তালা ঝুলছে সরকার ঘুমাচ্ছে। সরকারের ভুম ভাঙানোর সময় এসেছে,হুশ ফেরানোর সময় এসেছে।


সময় এসেছে ছাত্রছাত্রীদের একহয়ে একটাই শপথ নেওয়ার,এই সরকারের অর্থাৎ বিজেমূলের পতন।এদের সিংহাসন থেকে টেনে নামাতেই হবে,নাহলে শিক্ষা বাঁচানো যাবে না , বাংলাকেও বাঁচানো যাবে না।

এই লড়াই লড়তে হবে,এই লড়াই জিততে হবে।আমরা পারবো, পারতেই হবে।