SIR এবং Genz
• সৌমদ্বীপ দে
“তুমি আমার SIR, করো নাকো বর্ডার পার”, সাম্প্রতিককালে ‘চন্দ্রবিন্দু’ বাংলা ব্যান্ডের এই গানটি নেট দুনিয়ায় খুবই চর্চিত। কারণ,ইতিমধ্যে সারাদেশের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি আমাদের রাজ্যে ও এস আই আর-এর আগমন ঘটেছে। ২০২৫ এর শেষের দিকে এবং ২০২৬ এর শুরুর দিকে এস আই আর প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হয়ে যায়। মূলত এস আই আর লাগু করার মাধ্যমে এক স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা এবং মৃত ভোটার তথা ভুতুড়ে ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং রাজ্যের তৃণমূল সরকার উভয় সরকারি চায় এস আই আর এর মাধ্যমে তাদের ভোটের বাজারটাকে গরম করে নেওয়া, তাই তারা মেতে উঠেছে মানুষের মধ্যে এস আই আর নিয়ে ভয় দেখাবার খেলাতে। এখনো পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী এস আই আর প্রক্রিয়ার দ্বারা প্রায় ৬০ লক্ষের অধিক নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে এবং বিচারাধীন ভাবে রয়েছে প্রায় ৬৩ লক্ষ মানুষের নাম। এবার বলা যাক আমাদের জেনারেশন অর্থাৎ ‘GENZ’ সাথে এস আই আর এর সম্পর্ক, যেমন আমাদের পূর্ববর্তী সময়ে দাদু ঠাকুরদাদের বা বাবা কাকাদের এস আই আরে নাম না থাকলে আমাদেরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। আমরা যারা ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করি আমাদেরই ‘GENZ’ বলা হয়ে থাকে। বর্তমান এস আই আর পরিস্থিতির সাথে আমাদের প্রত্যক্ষ যোগ না থাকলেও পরোক্ষ একটি যোগ রয়েছে। আমরা সমাজের বিভিন্ন ইস্যুতে যেমন-শিক্ষা পরিকাঠামো, আমাদের বিভিন্ন অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, পরিবেশ নিরাপত্তা এবং আরো বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে সোচ্চার হয়েছি। আমাদের রাজ্যে শেষ এস আই আর হয়েছিল ২০০২ সালে। আমরা মূলত তৃতীয় জেনারেশনের ভোটার, এই বছর বা পরবর্তী বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য স্তরে ভোট দান প্রক্রিয়ার আগে আমাদের একটা বড় অংশ নির্বাচনে অংশ নেবে, এবং আমাদের ভোট দানের মাধ্যমেও একটা ব্যাপক প্রভাব পড়বে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোতে। আমরাই ঠিক করব যে আমাদের রাষ্ট্র বা আমাদের রাজ্যের ভবিষ্যৎ কি হবে! আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ঠিক কেমন হবে। ২০২৫-২০২৬ এর এস আই আই প্রক্রিয়ার একটি কুপ্রভাব খুবই স্পষ্টভাবেই লক্ষ্য করা যায়, সাধারণ মানুষের হেনস্থা, ভারতের নির্বাচন কমিশনের উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব তথা কোনো এক বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা করে দেওয়া ইত্যাদি। আমরা এই ভারতবর্ষে নতুন প্রজন্ম শুধুমাত্র একটি মানচিত্র দেখে বড় হইনি, আমাদের কাছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উপস্থিতি রয়েছে যদিও এখনো তা থেকে একটা বড় অংশ বিচ্ছিন্ন তবুও আমরা আমাদের এই রাষ্ট্রের ধারণা সম্পর্কে অবগত ভারতবর্ষের সংবিধান, ইতিহাস, ঐতিহ্য, বহুত্বের মধ্যে ঐক্যের মিলন কোন কিছু থেকেই বিচ্ছিন্ন নই। ‘কোভিড-19’ এর পরবর্তী সময়ের পর থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের একটি বড় অংশ পড়ালেখার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, এত শত সমস্যা থেকে মুক্তির একমাত্র সমাধান হলো ছাত্র-ছাত্রীদের ঐক্য, যথা সম্ভব রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর সাথে সম্পৃক্ত করা। সর্বশেষে ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ কে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘GENZ’-দের আরও বেশি দায়িত্ব গ্রহণ করা। নির্বাচনের পূর্বে এই এস আই আর প্রক্রিয়ার যে ভীতি মানুষের মধ্যে প্রকটভাবে দানা বেঁধেছে তা নিয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলের সুবিধার্থে নয় আমাদের এবং জনসাধারণের সুবিধার্থে ‘GENZ’-রা পথে-ঘাটে, অলিতে-গলিতে, নেট দুনিয়ায় সহ বিভিন্ন জায়গায় সোচ্চার হবে। আমরা যারা সুষ্ঠ সমাজের স্বপ্ন দেখি, আমাদের সামনে বড় লড়াই এবং আমাদেরই শোষণের সামনে ব্যারিকেড হয়ে দাঁড়াতে হবে।

