তৃতীয় বিশ্ব কেমন আশায় বাঁচে…

তৃতীয় বিশ্ব কেমন আশায় বাঁচে…

• অনিকেত চক্রবর্তী

হুগো চাবেজের “Our own path to Socialism ” ভেনেজুয়েলার জনগণকে শিখিয়েছিল, সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সমাজতন্ত্র গড়ে তোলাই একমাত্র পথ। একই ভাবে সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গে, তৃণমূলের দুর্নীতি এবং বিজেপির সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির বিরুদ্ধে গিয়ে -এক ও একমাত্র বামপন্থীরাই এই সাম্য ও সমাজতন্ত্রের পথ দেখাতে পারে। কেরালার সাফল্য এর জীবন্ত উদাহরণ, যা প্রমাণ করে সমাজতন্ত্র কীভাবে জনকল্যাণ নিশ্চিত করে।


চাবেজের দর্শন এবং বঙ্গের প্রেক্ষাপট
চাবেজ বলেছিলেন, সমাজতন্ত্র হলো জনগণের ক্ষমতায়ন, সম্পদের ন্যায়বিভাজন এবং উন্নয়নের স্থানীয় মডেল। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের শাসনে কোটি কোটি টাকার স্ক্যাম – শিক্ষক নিয়োগ থেকে চিট ফান্ড – জনগণের বিপুল অর্থ গিলে খেয়েছে । বিজেপি ধর্মের নামে প্রপাগান্ডার বিষ ছড়াচ্ছে সারা দেশ জুড়ে, পশ্চিমবঙ্গ ও ব্যাতিক্রম নয়।  চাবেজের মতো বামপন্থীদের আদর্শ, এখানে জনসম্পদের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে পারে, যেমন ভূমি সংস্কার এবং পঞ্চায়েতকে শক্তিশালী করা, যে পথে জ্যোতি বসুরা এগিয়েছিলেন।


তৃণমূলের দুর্নীতির কালোমেঘ
তৃণমূলে আমলের ১০ লক্ষ কোটির দুর্নীতি বঙ্গের উন্নয়নকে থামিয়েছে, প্রতিদিন অন্ধকারের মুখে ঠেলছে । চিট ফান্ড থেকে রেশন স্ক্যাম – সবই তৃণমূল নেতাদের কুঁড়েঘর থেকে রাজপ্রাসাদ হওয়ার সাতকাহন।  চাবেজের কথায়, এই ‘অলিগার্কি’ ভাঙতে হলে জনগণের শাসন দরকার, মানুষের শাসন দরকার। বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের ঐতিহ্যে, গরীব মানুষকে জমি বিতরণ এবং শ্রমিককে তার অধিকার দেওয়া, প্রমাণ করেছে যে সমাজতন্ত্রে একমাত্র দুর্নীতিমুক্ত শাসন সম্ভব। আজকের এই সংকটে তাই লাল ঝান্ডাই একমাত্র বিকল্প।


বিজেপির পরিচয়- রাজনীতির ফাঁদ
বিজেপির সাম্প্রদায়িকতা বঙ্গের সেকুলার ঐতিহ্যকে ধ্বংস করছে। হিন্দু-মুসলিম ফাটল বাড়িয়ে তারা কর্পোরেট লুটের পথ খুলছে। তাদের লাগামহীন বেসরকারীকরণ এবং মন্দির-মসজিদের রাজনীতি, দেশপ্রেমের নামে বেসাতির পরিচয়।  চাবেজ সাম্রাজ্যবাদের এই বিভাজননীতির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছিলেন। ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকার -এই রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা করে দেখিয়েছে শ্রেণীসংগ্রামের মাধ্যমে, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কর্মসংস্থানের কথা বলে।
*কেরালার সমাজতন্ত্রের আলো*
কেরালা, বাম ডিএলএফ সরকারের অধীনে ভারতের সেরা প্রশাসিত রাজ্য। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামোতে শীর্ষে – দুর্নীতি নির্মূল এবং পঞ্চায়েতে জনগণের অংশগ্রহণ চাবেজের মডেলের মতো। পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বে কর্মসংস্থান ৪২% বেড়েছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র আধুনিক। এটি প্রমাণ করে যে বাম শাসন জনকল্যাণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে পারে, তাই কেরালা প্রথম চরম দারিদ্র্যমুক্ত রাজ্য ভারতের।  বঙ্গও এই পথ অনুসরণ করতে পারে।


বামেদের নেতৃত্বে নতুন বাংলা
চাবেজের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বঙ্গে সমাজতন্ত্র গড়তে হলে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-যুব ঐক্য দরকার। লেফট ফ্রন্টের অভিজ্ঞতা এবং কেরালার সাফল্য দেখায় যে দুর্নীতিমুক্ত, সেক্যুলার শাসন সম্ভব। ২০২৬ নির্বাচনে বামকে সমর্থন করে জনগণ নিজস্ব সমাজতন্ত্রের পথ বেছে নেবে – যেখানে সম্পদ সকলের জন্য, বিভাজন নয়। এটিই বাংলার ভবিষ্যৎ।