ওদের কথা বলছে না কেউ

ওদের কথা বলছে না কেউ
নীলাংশু পাজা

কেউ ডাকি “মা”, কেউ “ মাম্মি”, কেউ “আম্মি”…
ভালোবাসাটা এক… অনুভূতিটাও… তাই “মা”এর দেওয়া ভাষার লড়াই এ প্রথম থেকে এস এফ আই যেভাবে ছিলো আজও তেমনিভাবেই লড়াইয়ের পথে শান দিচ্ছি আমরা…
“আমাদের জেলার এক প্রান্ত দিয়ে বাঘ ঢোকে আর, অপর প্রান্ত দিয়ে মেট্রো…’’— কমরেড গৌতম দেব।
মেট্রোর লাইন একদিক থেকে অন্যদিকে নতুন করে বিস্তৃত হলেও আমাদের এই উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকগুলো স্থায়ী সমস্যার মধ্যে অন্যতম হিন্দি ভাষাভাষী ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার নিত্য সমস্যা আজও বিরাজমান— ভোট যায়, ভোট আসে— হাজার হাজার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি’র মতো এই হিন্দি ভাষায় বেড়ে ওঠা ছেলে-মেয়েগুলোর পড়াশোনার যে প্রতিদিন এর প্রাথমিক সমস্যাগুলো সমাধান দরকার সেদিকে একবিন্দুও হুঁশ নেই প্রশাসন আর, এই অপদার্থ সরকারের…
আমাদের জেলার একটা অঞ্চলের ছোট্ট বিবরণ দিলে বিষয়টা আরও স্পষ্ট হবে। ভাটপাড়া থেকে ১০ কিমি এর মধ্যে কোনো সরকারি হিন্দি মাধ্যম এর বিদ্যালয় নেই। ন্যূনতম দূরত্ব ২২ কিমি। অথচ ওই অঞ্চলে অধিকাংশ পরিবার হিন্দি ভাষী।
শুধু ভাটপাড়া নয়, সারা জেলার বহু এমন অঞ্চল রয়েছে যেখান থেকে বাস/ট্রেনে যাতায়াত করতে হয় ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত শুধু বিদ্যালয়ে পৌঁছনোর জন্য। সরকার এই বিষয়তেও উদাসীন। যে সমস্ত ছেলে-মেয়েদের প্রতিদিন বাসে/ট্রেনে চেপে স্কুল যেতে হচ্ছে তাদের সকলের আর্থিক পরিস্থিতি সমান এমনটাও নয়। সরকার অন্তত তাদের যাতায়াতের ভাড়াটা যতটা সম্ভব কম/ফ্রি করুক (বিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করে)।
সারা রাজ্যে সরকারটা শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে লুটে খেয়েছে যার প্রমাণ আমাদের সকলের সামনে বর্তমান। এমনকি সরকারি মিড-ডে মিলের চাল চুরির ঘটনাও আমরা দেখেছি। এই হিন্দি মাধ্যম এর সরকারি স্কুল গুলিতে অত্যন্ত নিম্নমানের খাওয়ার যা ক্লাস ৮ অবধি ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে খাওয়া একপ্রকার অসম্ভব।
ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার স্বাধীনতা একটু একটু করে কেড়ে নিচ্ছে এই সরকারটা প্রতিদিন। ছেলে-মেয়েগুলো পড়তে চায়,জানতে চায় বিজ্ঞানকে, জানতে চায় Commerce বিষয়টা কি?
কিন্তু, উপায় কোথায়? স্কুলগুলোতে ল্যাব নেই… এমনকি বহু স্কুল-এ বিজ্ঞান, commerce এই বিভাগগুলিই নেই। কারণ, সেই বিষয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা নেই। শিক্ষক-শিক্ষিকা থাকবেন কি করে? ওনারা তো রাস্তায় বসে আছেন। ওনাদের ন্যায্য যোগ্যতার চাকরিগুলো তো লাখ-লাখ টাকায় বিক্রি করেছে এই সরকার এর নির্লজ্জ নেতা-মন্ত্রীগুলো।
লজ্জা হয় এদের আচরণে..!
ল্যাব নেই, লাইব্রেরী নেই, খেলার মাঠ নেই, পড়ার জন্য ছেলে-মেয়েরা রয়েছে কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষিকা নেই, পরিষ্কার টয়লেট নেই, বিশুদ্ধ পানীয় জল নেই আর এগুলোর মতো অজস্র সমস্যার মধ্যেই এই ছেলে-মেয়ে গুলো রোজ লড়াই করছে প্রকৃত শিক্ষিত হয়ে এই অসভ্য-লুটেরা-অমানবিক সরকারটার গালে একটা চড় মারার। এই ছেলে-মেয়েগুলো রোজ স্বপ্ন দেখে নিজেদের স্কুলে সকাল বেলার প্রার্থনার লাইনের পর একটা সুস্থ পরিবেশ এর স্কুল দেখবে, ল্যাব-এ
গিয়ে ফিজিক্স-কেমিস্ট্রির ক্লাস করবে, ইন্টিগ্রেশন থেকে ম্যাট্রিক্সের অঙ্কের একের পর এক সমাধান করবে, ইকনমিক্সটা মন দিয়ে পড়ে রাজ্যের ভেঙ্গে পড়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতিটাকে একটু জাগিয়ে তুলবে, কেউ স্বপ্ন দেখছে উকিল হবে, তো কেউ ডাক্তার আর, এই সরকারটা ওই হিন্দি ভাষায় কথা বলা, পড়াশোনা করা ছেলে-মেয়েগুলোর স্বপ্ন কে গলা টিপে খুন করার চেষ্টায় রয়েছে। কিন্তু, আমরা আছি। ওদের স্বপ্ন ভঙ্গ
করার যে অন্ধকার রাত সেখানে অতন্দ্র প্রহরীর মতো এস এফ আই আছে ওদের স্বপ্নগুলো যাতে পূরণ হয় সেই লড়াই-এর সামনে সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য।
“শিক্ষা সকলের,
না ধর্মের না বাজারের…’’



সহযোগিতা : সৈইফ ইসলাম

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *