স্রোতের মতো মিছিল চলবে…
নেপালদেব ভট্টাচার্য
(৭ই এপ্রিল, ২০২৫ তারিখ “রঞ্জন” পত্রিকার জন্য দেওয়া শেষ সাক্ষাৎকার)
১) বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনে আপনার আসা কিভাবে?
উত্তর: ১৯৬৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে খাদ্য আন্দোলন হয়, যা শুরু হয়েছিল নুরু ইসলাম ও আনন্দ হাইতের মৃত্যুতে। এরা দুজনেই স্কুল ছাত্র ছিল। এই ঘটনা ছাত্র সমাজকে ভীষণ ভাবে আলোড়িত করেছিল। এই ঘটনা আমাকেও ভীষণভাবে আলোড়িত করেছিল। আমি তখন ১০ ক্লাসের ছাত্র, তখন স্কুলে কলেজে ধর্মঘট লেগেই থাকত। আমাদের স্কুলেও এলাকার বামপন্থীরা এসেছিলেন ধর্মঘট করতে, আমি তখন বাম-ডান কিছুই বুঝি না। কিন্তু এই ছাত্র মারা যাওয়াটা তো মেনে নিতে পারিনা। আমরা ওদের বললাম, “আপনারা চলে যান, আপনাদের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।” আমরা স্কুলের ছাত্ররা সিদ্ধান্ত করে ধর্মঘট করলাম এবং পার্শবর্তী স্কুলগুলোতেও ধর্মঘট হল।
তারপর ছাত্ররা রাস্তায় বেরিয়ে এলো, কিন্তু গাইডেন্স ছিল না। ফলে স্রোতের মত মিছিল চলেছে। এভাবেই ধীরে ধীরে ১৯৬৬তেই আমি ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত হই।
২) সেই সময়কার ছাত্র আন্দোলনের মূল দাবিদাওয়া কি কি ছিল?
উত্তর: ১৯৬৬ সালের খাদ্য আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রেশনে বাড়তী চাল, কেরোসিন তেল ইত্যাদি দাবীদাওয়া। তখনও আমি সংগঠিত ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলাম না। ১৯৬৭তে বি.পি.এস.এফ’র সদস্য হই, পরে ভাটপাড়ার সম্পাদক। তখন মূল ধারা ছিল, তখন স্ট্রাইক ইত্যাদি করেছি কংগ্রেস-এর বিরুদ্ধে। সরকার বিরোধী আন্দোলনটাই মূলত ছিল। সেটা আস্তে আস্তে পূর্ণতা পায় ১৯৬৭-৬৯ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠনের পর। সেসময়ে অবৈতনিক শিক্ষ্যার দাবি এক্কেবারে প্রথম সারিতে ছিল। তার সাথে স্থানীয় দাবী গুলো যুক্ত হত। এছাড়া আরও একটা পপুলার দাবী ছিল, যা হচ্ছে- বাসে ছাত্ররা যাতায়ত করলে অন্তত বাস ভাড়ায় ছাড় দিতে হবে।
৩) আপনি যখন ছাত্র আন্দোলনের একেবারে সক্রিয় কর্মী, SFI’র সামনের সারিতে রয়েছেন সেই সময়কার কোনো ঘটনার কথা যদি বলেন যা এখনও ভাবলে আপনাকে শিহরিত করে তোলে?
উত্তর: আগেই বলেছি সংগঠিত ছাত্র আন্দোলনে আমি যুক্ত হই ১৯৬৮ সালে। ১৯৬৮ তে BPSF এর জেলা সম্মেলন হলো নৈহাটিতে। তার আগে আঞ্চলিক সম্মেলন হল, আমি তার সম্পাদক নির্বাচিত হলাম। ১৯৬৮ এ জেলা সম্মেলনের সময় আমি সদ্য Higher secondary পাস করে কলেজে ঢুকেছি, সেই সময় আমি আর গৌতম দেব একসঙ্গে জেলা কমিটির সদস্য হলাম। ইতিমধ্যেই ১৯৬৮-৬৯ এ একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটে গেল, সেটা হলো যে নকশালপন্থীরা চলে এলো। ফলে গণআন্দোলনটা আর গণআন্দোলনের চেহারায় রইল না। খুনখারাবিতে পরিণত হল। এবং তার পুরোপুরি সুযোগ নিলো কংগ্রেস। কোন কোন জায়গায় কংগ্রেস নকশাল এক হয়ে আমাদের আক্রমণ করত এবং তাতে সংঘর্ষ হতো। তাতে আমাদের বহু লোক মারা গেছেন। ওদেরও মারা যায়নি এরম তো নয়। কারণ কেউতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মৃত্যুবরণ। আক্রান্ত মানুষ প্রতিরোধ করে। তো যাই হোক সেই সময় ওইভাবে কোন একটা দুটো ঘটনা বলা যাবে না ওই পুরো পিরিয়ডটাই এতটাই জ্বলন্ত মানে, ১৯৭৭অব্দি খুবই ঘটনাবহুল। বামফ্রন্ট আসার আগে পর্যন্ত এতটাই অস্থিরতা ছিল যে একটা মিছিল করা ও দুঃসাধ্য ছিলো।
৪) আপনি BPSF করলেন তারপর SFI করতে এলেন। আপনি এবং গৌতম দেব একসঙ্গে এই জেলার জেলা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেই সময়ের আমাদের জেলার অন্যতম নেতৃত্ব স্থানীয় কমরেড ছিলেন রঞ্জন গোস্বামী। কমরেড রঞ্জন গোস্বামীর সাথে আপনার আলাপ কিভাবে?
উত্তর: রঞ্জনদাকে তো আমি প্রথম দেখি ১৯৬৮ সালে BPSF অফিসে। তারপরে SFI অফিস যখন হয়, অর্থাৎ বিপিনবিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিট থেকে যখন শিফ্ট করে তখনও দেখেছি। কিন্তু তখন উনি ছাত্র আন্দোলন করতেন না। BPSF-এর পর্যায়টা কিংবা বিপিনবিহারী গাঙ্গুলী স্ট্রিটে ওনাকে যেভাবে পেয়েছি পরে SFI অফিসে সেভাবে পাইনি। কারণ তখন তিনি স্থানীয় ও জেলাস্তরে পার্টির নেতা হয়ে গেছেন। রঞ্জনদা আমাদের সেক্রেটারি ছিলেন, রমলাদি আমাদের প্রেসিডেন্ট। ফলে তখন তো আমি ওই কমিটিতেই আছি, একটু বাড়তি উদ্যোগ নিয়ে একটু দৌড়ঝাঁপ করা বেশি অফিসে আসা, বেশি কাজকর্ম করার যে ব্যাপার ছিল তাতে তো রোজকার একটা যোগাযোগ ছিলই। সে অর্থে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি বলা যায়। রঞ্জনদা আমার থেকে অবশ্যই সিনিয়র কিন্তু একটা টিম যেভাবে কাজ করে। আমি তখন সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য, রঞ্জনদা সেক্রেটারি, রমলাদি প্রেসিডেন্ট। আমি, সমীর পুতুতুন্ডু, গৌতম দেব সবাই একসাথেই কাজ করেছি।
৫) রঞ্জন গোস্বামী ১৯৭৭ এ নির্বাচনের দিন, নির্বাচন করে বাড়ি ফেরার পথে শহীদ হলেন। সেই দিনের ঘটনা প্রবাহ বা পরের দিন সেই স্মৃতিগুলোর সম্পর্কে কিছু যদি বলেন?
উত্তর: তখন রঞ্জনদার খুন হওয়াটা হঠাৎ! আচমকাই!! তখন তো খুন হতোই, আমরাই তো ভাবতাম আমরাই খুন হয়ে যেতে পারি। এটা একটা Shocking বিষয় ছিল। একটা ধারাবাহিক লড়াইয়ের পার্ট। অবশ্যই একটা বড় ধাক্কা লেগেছিল আমাদের নেতা রঞ্জনদা মারা গেল চোখের সামনে কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা দ্রুত জমায়েত করলাম। মিছিল করলাম। ছাত্র ধর্মঘট হল। আর যেহেতু ইলেকশনের দিন হল ঘটনাটা, তাই বামফ্রন্ট সরকার রঞ্জনদা দেখে যেতে পারলেন না। তারপরে বামফ্রন্ট সরকার এল। তারপরে শহীদের মৃত্যুবরণে আন্দোলন, ধর্মঘট, শোক সভা যা যা করা যায় সেগুলো সবই হয়েছে। তখন আরো বেশি করে হয়েছে কারণ তখন সদ্য আমরা জিতে এসেছি। ফলে অনেক বেশি মানুষ এসে জড়ো হয়েছিল। অনেক ছাত্র জড়ো হয়েছিলো। ফলে রঞ্জনদা কে আমরা অনেকে মিলে যথাযোগ্য শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি।
৬) সেই সময়কার ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে তো এখনের ছাত্র রাজনীতির ফারাকটা আপনি নিজের রাজনৈতিক জীবনে দেখেছেন, উপলব্ধি করেছেন। মূল কোন কোন জায়গাগুলোয় মনে হয় যে মৌলিকভাবে সেই সময়কার ছাত্র আন্দোলন এবং এখনকার বামপন্থী ছাত্র আন্দোলন দুটো ভিন্ন?
উত্তর – বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের ধারাটা একই আছে। কারণ সেটা মতাদর্শের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সে সময় লড়াইটা মূলত আদর্শগত ছিলো। আমাদের বোঝাতে হতো আমরা কেনো AISF এর সদস্য হব না। আমাদের বোঝাতে হতো কেন নকশাল পন্থীদের সাথে ছাত্ররা যাবে না। এরাও কমিউনিস্ট পার্টি ওরাও কমিউনিস্ট পার্টি, ওদেরও ছাত্র ফেডারেশন আমাদেরও ছাত্র ফেডারেশন, এই যে এতো ভাগ এই ভাগটা ছিল মূলত আদর্শগত। কংগ্রেস তো পুঁজিপতি, জমিদারদের পার্টি বলে এক কথায় মিটিয়ে দিলাম। কিন্তু বাকি যারা রয়েছে যাদের সাথে সংঘর্ষ করে আমরা বড় হয়েছি তাদের সাথে লড়াইটা পুরোটাই ছিলো আদর্শগত। আজকের তারিখে সেই আদর্শগত লড়াই হচ্ছে না। SFI এর কমরেডরা আদর্শে অবিচল হয়তো আছেন, কিন্তু তার বিপরীতে যারা আছে- তৃণমূল তাদের কোনো আদর্শ নেই,।বিজেপির যে আদর্শ আছে সেটা খুবই খারাপ, তার বিরুদ্ধে লড়াই হচ্ছে। তখন যেহেতু সবটাই আদর্শগত ছিল, সেই জন্য সেই সময় স্লোগান দেওয়া যেতো “তোমার নাম আমার নাম – ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম”। ভিয়েতনামের জন্য মিছিলে একজনের প্রাণ চলে গেলো। এটা ঐতিহাসিক ব্যাপার। পৃথিবীতে এরকম কোথাও হয়েছে বলে আমার মনে হয় না নিজের দেশে লড়াই হচ্ছে না, অন্যের দেশের লড়াইয়ের সমর্থনে মিছিল করতে গিয়ে প্রাণ গেল।
৭) ২০১৬’র পর প্রায় এক দশক পশ্চিমবঙ্গে ছাত্র সাংসদ নির্বাচন হয়নি। ফলত এখনকার ছাত্র আন্দোলনের বড় একটা অংশ ছাত্র সাংসদ কি বা ছাত্র সাংসদ নির্বাচনে কি করতে হয়, তা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারনা নেই। ছাত্র সংসদ নির্বাচন তো আপনাদের সময় নিয়মিত হত। এই প্রজন্মের ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের ছাত্র সাংসদ নির্বাচনের বিষয়ে আপনার কি অভিমত দেবেন?
উত্তর: এটা একটা ভয়ংকর বিষয়। সব রাজনৈতিক দলের জন্যই এটা ক্ষতিকারক। কারণ ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে একজন ছাত্র সমাজকে জানতে, বুঝতে শেখে। একজন ছাত্র যখন কলেজ নির্বাচনে প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে কলেজটা চালায়, তার ভিতরকার যে পরিচালনা ক্ষমতা, তার প্রকাশ ঘটে। শুধু পড়াশুনা করল না, পরিচালনাও করল। এটা যে কোনো সমাজের পক্ষে খুব জরুরি। এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলেই ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আসা ব্যাক্তিই নেতা হয়েছে, কৃষক বা শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমে আসা নেতা অনুপাতে খুবই কম অনুপাতে। মূলত ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই নেতৃত্ব আসে। সেই জায়গাটা পরিকল্পিত ভাবে মরুভূমি করে দিয়েছে এরা। নিজেদের কিছু পেটোয়া বাহিনীকে কল্যান সমিতি ইত্যাদি নাম করে চালাচ্ছে কিন্তু নির্বাচন করছে না। এরা নির্বাচিত না হয়েও কোটি কোটি টাকার ফান্ড পাচ্ছে। নির্বাচন করলে একটা তাত্বিক লড়াই হয়।
আমি তিনটি কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম, আমাকে বলা হয়েছিল যেখানে সংগঠন নেই সেখানে গিয়ে ভর্তি হতে। ফলে পড়া ও সংগঠন গড়া, দুটোই করলাম। সেখানে পরবর্তীতে নকশালদের উপদ্রব বাড়ায়, বহু মানুষ এলাকা ছাড়া হয়। একটা কলেজের গেটে মাইক বেঁধে একদিকে বন্দেমাতরম আরেকদিকে ইনকিলাব জিন্দাবাদ। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন সময় ভাগ করে নিয়ে বক্তৃতা করছেন, ছাত্ররা তা শুনছে। তার মধ্যে দিয়ে লিডার তৈরি হয়েছে। আজ সেই সুযোগটা নেই। আমি কাউকে এড্রেস করছি, ঠিক ভুলের ভিত্তিতে হাততালি পড়বে, ঠিক বলতে হবে। ছাত্রদের সামনে ভুল হলে তারা তো মানবে না, ফলে একটা রাজনৈতিক বিতর্কের জায়গা, একটা শেখার জায়গা, একটা ডেডিকেশনের জায়গা, একটা জেদ তৈরির জায়গা ছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচন। আজকে সেই শিকড়টাকেই কেটে দিয়ে পেটোয়া লোক দিয়েই চালাচ্ছে। এরা নির্বাচিত কাউকে আনতে চায় না। এটা খুবই খারাপ একটা ট্রেন্ড, জানিনা কিভাবে হবে, আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে নাকি কোর্টের রায়ের মধ্যে দিয়ে, কিন্তু এটা জরুরি। ছাত্র আন্দোলন বেঁচে থাকবে, টিকে থাকবে ফ্লারিস্ করবে যদি কলেজগুলোয় নির্বাচন হয়।
যে গুলো সরকারি আন্ডারটেকিং কর্পোরেশন তারা হয়ত দশ বিশ পঞ্চাশটা বাস নিয়ে গঠিত, তারা এত হাজার হাজার প্রাইভেট বাস, এত হাজার হাজার ট্যাক্সি, টেম্পো, ম্যাটাডোর, মিনি ট্রাক এর তো কোনো শেষ নেই। এই সংখ্যা বিশাল এবং বিপুল। এদের জীবন ভয়ংঙ্কর রকম অনিশ্চিত। কারুর কোন সোশ্যাল সিকিওরিটি নেই। এক্সিডেন্ট হয়ে মারা গেলে, অসুস্থ হলে কিচ্ছু করার নেই। একদিন যদি ভারতবর্ষে চাকা বন্ধ হয়ে যায়, এক সেকেন্ডের জন্যেও ভারত চলবে না। কোনো মাতব্বর নেতা চালাতে পারবে না। গোটা সিস্টেমটা চাকার উপর রান করছে আর যারা চাকাটাকে ঘোড়াচ্ছে তাদের জীবনটাই ভয়ংকর অনিশ্চিত। তাই সেটা নিয়ে আমাদের বলতে হয়, সংগঠিত করতে হয়।
৮) আপনি পরিবহন শ্রমিক আন্দোলনের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব। পরিবহন শ্রমিকের বৈচিত্র, সময়ের সাথে সাথে বদলাচ্ছে। এখন কলকাতা শহর, শহরতলী সহ সারা ভারতবর্ষ জুড়েই ওলা-উবের-র্যাপিডোর মত বিভিন্ন বাইক-ট্যাক্সি পরিষেবা এবং এই জাতীয় অ্যাপ নির্ভর ক্যাব পরিষেবা ব্যাপকহারে প্রচলিত হচ্ছে। এদের যে দাবী-দাওয়া বা এদের যে সমস্যা এইগুলোকে আপনারা কিভাবে অ্যাড্রেস করছেন?
উত্তর – পরিবহন ব্যাপারটা খুব বড়। ব্যাপারটা শুধু ওলা, উবের, র্যাপিডো দিয়ে বোঝা যাবে না। ট্রাক। প্রায় ৯৪% মাল পরিবহন হয় ট্রাকে। এই ট্রাক কলকাতা থেকে আসামে যেতে গেলে মোটামুটি ৭ দিন সময় লাগে। এদের উপর ভয়ংঙ্কর ভাবে নির্ভরশীল গোটা সিস্টেমটা। এটা পন্য পরিবহন, এতে ভ্যান-রিক্সাও যুক্ত। এই সংখ্যাটা অনেকেরই অনুমান নেই, যে ভারতবর্ষে যত কৃষক আছে প্রায় সমপরিমান পরিবহন শ্রমিক আছে। এই বিরাট ফোর্স,এত বড় শ্রম শক্তি, কিন্তু বিছিন্ন!
যে গুলো সরকারি আন্ডারটেকিং কর্পোরেশন তারা হয়ত দশ – বিশ – পঞ্চাশটা বাস নিয়ে গঠিত, তারা এত হাজার হাজার প্রাইভেট বাস, এত হাজার হাজার ট্যাক্সি, টেম্পো, ম্যাটাডোর, মিনি ট্রাক এর তো কোনো শেষ নেই। এই সংখ্যা বিশাল এবং বিপুল। এদের জীবন ভয়ংঙ্কর রকম অনিশ্চিত। কারুর কোন সোশ্যাল সিকিওরিটি নেই। এক্সিডেন্ট হয়ে মারা গেলে,অসুস্থ হলে কিচ্ছু করার নেই। একদিন যদি ভারতবর্ষে চাকা বন্ধ হয়ে যায়, এক সেকেন্ডের জন্যেও ভারত চলবে না। কোনো মাতব্বর নেতা চালাতে পারবে না। গোটা সিস্টেমটা চাকার উপর রান করছে আর যারা চাকাটাকে ঘোড়াচ্ছে তাদের জীবনটাই ভয়ংকর অনিশ্চিত। তাই সেটা নিয়ে আমাদের বলতে হয়, সংগঠিত করতে হয়।

