Gen-Z Politics Through Marx’s Lens

Gen-Z Politics Through Marx’s Lens

স্নেহাদ্রী মুহুরী

আজকালকার ছেলেমেয়েরা, মানে জেন-জি (১৯৯৭-২০১২ এর মধ্যে জন্ম), রাজনীতিতে বেশ জোরালো ভূমিকা নিচ্ছে। ক্লাইমেট স্ট্রাইক, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার, অ্যান্টি-ক্যাপিটালিস্ট মিম-সবকিছুতে ওদের উত্তেজনা টের পাওয়া যায়। এখন ভাবো, কার্ল মার্কস যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তাহলে এই প্রজন্মকে কী বলতেন? মার্কস তো বলতেন, ইতিহাস এগোয় শ্রেণির লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে-যারা উৎপাদনের মালিক (বুর্জোয়া), আর যারা শ্রম বেচে খায় (প্রলেতারিয়াত)। জেন-জি’কে দেখলে মনে হয়, ওরা আজকের প্রলেতারিয়াতের নতুন রূপ। কল্পনা করো: গ্রেট রিসেশনের ধাক্কা খেয়ে বড় হয়েছে, গিগ জব করে (উবার, সুইগি, জোম্যাটো), অ্যালগরিদমের হুকুমে কাজ, ছাত্রঋণের ভার কাঁধে। এটা তো মার্কসের ‘অ্যালিয়েনেশন’-এর একদম জীবন্ত ছবি-কাজ করছে, কিন্তু নিজের শ্রমের সঙ্গে কোনো যোগ নেই, সবকিছু অচেনা লাগে। অনেকেই বার্নআউটে ভুগছে, কাজের চাপে মানসিক চাপে। মার্কস বলতেন, এই শোষণই তো পুঁজিবাদের মূল। ওদের আন্দোলন দেখলে মনে হয়, শ্রেণি-চেতনা জাগছে। গ্রেটা থানবার্গের ক্লাইমেট স্ট্রাইক-এটা শুধু পরিবেশ নয়, কে লাভ করছে, কে ক্ষতি ভোগ করছে-এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে। কর্পোরেটরা লুটছে, সাধারণ মানুষ বন্যা-খরায় মরছে। ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার-এও একই কথা-জাতিগত বিভেদ দিয়ে শ্রেণিকে ভাগ করে রাখা হয়, যাতে আসল শত্রুকে না চেনা যায়। জেন-জি এসব লিঙ্ক করে দেখছে-জাতি, লিঙ্গ, শ্রেণি সব মিলিয়ে শোষণ চলছে। মার্কস নিশ্চয়ই খুশি হতেন এই ‘ফলস কনশাসনেস’ ভাঙার জন্য। কিন্তু মার্কসের মতো সতর্কও থাকতেন। সোশ্যাল মিডিয়া ওদের মূল অস্ত্র, কিন্তু সেটাই ফাঁদ। টিকটক-ইনস্টায় প্রতিবাদ ভাইরাল হয়, লাইক-শেয়ার আসে, কিন্তু টাকা যায় টেক-বসদের পকেটে। প্রতিবাদটা কনটেন্ট হয়ে যায়, পারফর্ম্যান্স হয়ে যায়। ‘ক্যানসেল কালচার’ চলে-কাউকে ক্যানসেল করা সহজ, কিন্তু পুরো ব্যবস্থা বদলানো? সেটা কঠিন। নির্বাচনে ভোট দেয় অনেকে, বার্নি বা AOC-কে সমর্থন করে-ভালো লাগে, কিন্তু মার্কস বলতেন, এটা শুধু পুঁজিবাদের যন্ত্রণা কমায়, শেষ করে না। তবু আশা আছে। কোভিডের সময় মিউচুয়াল এইড দেখেছি-কমিউনিটি ফ্রিজ, ভাড়া ধর্মঘট-এটা তো মার্কসের সলিডারিটির ছবি। “ইট দ্য রিচ” মিম দেখে হাসি, কিন্তু তার মধ্যে রাগও আছে। ওরা টেক-স্যাভি-ভাবছে ওয়ার্কার-কন্ট্রোলড অ্যাপ, ব্লকচেইন দিয়ে পুরোনো ব্যবস্থা উল্টে দেওয়ার কথা। সারকথা, মার্কস জেন-জিকে দেখতেন একটা জাগ্রত, কিন্তু এখনও পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ না-হওয়া প্রজন্ম হিসেবে। অ্যালিয়েনেটেড, কিন্তু লড়াই করতে চায়। ডিজিটাল দুনিয়ায় ওদের শক্তি আছে-যদি মায়া ছাড়তে পারে, তাহলে শ্রেণিযুদ্ধের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। মার্কস বলেছিলেন, “প্রলেতারিয়াতের হারানোর কিছু নেই, শুধু শৃঙ্খল ছাড়া।” জেন-জি, শোনো তো-একসঙ্গে হলে সত্যিই অনেক কিছু বদলাতে পারো।