• ঋতঙ্কর দাস
“Freedom is merely a privilege extended
Unless enjoyed by one & all”
আমাদের প্রজন্মের কাছে একবিংশ শতাব্দীর আকাশ যত উজ্জ্বল ডিজিটাল আলোয়, এই প্রজন্ম ততই ভারাক্রান্ত নৈরাশ্যের চাপে। আমরা যুগে যুগে স্বাধীনতার গান গেয়েছি — পথসভার মাইকে আর মিছিলে, ইনস্টাগ্ৰামের রিলের হ্যাশট্যাগে। কিন্তু স্বাধীনতা আদৌও কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য ‘এক্সটেন্ডেড প্রিভিলেজ’ মাত্র হয়েই রয়ে গেছে এ বধ্যভূমিতে।
ডাইনিং টেবিলে পরিবেশিত স্বাধীনতা আজ অদ্ভুত দ্বান্দ্বিকতায় জর্জরিত। একদিকে যেমন ইরান-ফিলিস্তিনের রক্তপাত লাইভ টেলিকাস্ট হয়, অন্যদিকে তেমনই গাজা বা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দৃশ্য ‘বিশ্বাসযোগ্য নয়’ বলে ট্যাগ খায় এই জগতেই। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম যে নীরব সেন্সরশিপ চালায়, তা সাম্রাজ্যবাদের থাবা অপেক্ষা কম বীভৎস নাকি? আধুনিক লগ্নি পুঁজি নিয়ন্ত্রিত বিশ্ব মানুষের স্বাধীনতা চায় না, চায় নিয়ন্ত্রিত বাজার ও নিয়ন্ত্রিত মত।
তাই আজ গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো যখন নব্য-ঔপনিবেশিক ঋণের ফাঁদে দিন কাটায়, তখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ডিজিটাল ডিভাইড, জলবায়ু অবিচার ও কর ফাঁকির রাজনীতি হচ্ছে বোঝা সত্ত্বেও মাথা উঁচু করে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার কেউ থাকেনা।
স্বাদহীন স্বাধীনতা আর নৈরাশ্যের ড্রাগের অ্যান্টিডোট খুজছে এই শতকে জন্মানো প্রজন্ম। চাই খোলা মনে কথা বলার স্বাধীনতা। কিন্তু কোথায় কি?!
দেশের কথাই না হয় একটু বলি — আমরা তো এখানেই থাকি, ঘাম ঝরাই, ভোট দিই, রাগ করি, ক্লান্ত হই কিন্তু খোলা মনে কথা বলতে পারি কি আদৌ? আদানি, আম্বানি, বিড়লা — এদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দেশের প্রায় সব খনি, বন্দর, বিমানবন্দর, রেললাইন। সরকার যে ট্যাক্স নেয়, তার অর্ধেক যায় এই গোষ্ঠীগুলোকে ঋণ মকুব করতে। আর কয়েক হাজার টাকা ঋণের কিস্তি দিতে দেরি হলে ব্যাঙ্কের গুন্ডা চলে আসে কৃষকের বাড়িতে। মান বাঁচাতে কেউ জমি বেঁচে দেয়, কেউ গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে যায়! এদেশে ক’জন আজকাল জিজ্ঞাসা করতে পারে এসব কেন হচ্ছে!? পার ক্যাপিটা ইনকাম, অসাম্য, বেকারত্ব, অসহিষ্ণুতা এগুলো নিয়ে আলোচনা করা যায় খোলা মনে ?
ব্যাপারটা এমন নয় যে এসব নতুন হচ্ছে! সত্তোরের দশকেও অনেকটা একই কায়দায় চলছিল দেশ – রাজ্য। এখন যেমন এরাজ্যে আমরা অভ্যস্ত হচ্ছি পুলিশের সাথে প্যারা-মিলিটারি’র বুলডোজার অ্যাকশন দেখতে, ওই সময়েও এই চিত্রের খুব একট অন্যথা হয়নি। সেই নিকষ কালো রাতে আলো জ্বালাতো যারা, তাদের একজন ছিলেন রঞ্জন গোস্বামী!
‘অপরাজিত’ উপন্যাসের শেষ পর্বে অপু যেমন সব বাঁধা অতিক্রম করে এগিয়ে যায়, সেই পথেই এগিয়ে ছিল যারা, যারা ভেবেছিল স্বাদহীন থালায় স্বাধীনতার ভাত আনতে গেলে ঝড় তুলতে হয়। আর এই ঝড় তুলতেন যারা, তাদের নেতা ছিলেন রঞ্জন গোস্বামী!
অপরাজিত ৪৯…!

