- দেবাঞ্জলি হাজরা
এক ভেতো বাঙালির মনে রবিবার দুপুর বেলা এই অদ্ভুত প্রশ্ন টা মোটেই হঠাৎ করে আসেনি, ঐযে বাংলার প্রবাদে আছে না “কচি পাঠা বৃদ্ধ মেষ” এই বুলিটা আওড়াতে আওড়াতেই হুট করে কেমন কচি পাঠা! এই মাকু বলে আবার দেবাংশুর কথা বলছি মোটেই ভাববেন না কিন্তু,যাক তীর্থে ফিরি ওই যে কচি পাঠা থেকে শেষের কবিতায় ঝাঁপ দিলাম আর ডুব সাঁতার দিয়েই জলের তলায় দেখতে পেলাম বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দিতে ব্যাপার টা ঠিকঠাক আবেগপ্রবণ হয়েছে কিনা সেটা মিলিয়ে নিচ্ছেন।
আমি অসাড় হিন্দুস্থানী কিছুতেই হিন্দিতে কালের যাত্রার ধ্বনি শুনতে পেলাম না তাই আবার নিশ্বাস নিতে উপরে চলে এলাম.এবার রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়াতে উড়াতে মধ্য কথায় আসি,এইযে কি সুচারু ভাবে আমাদের মাতৃ ভাষার প্রতি দরদ টা বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র – ছাত্রী দের মন থেকে নিংড়ে সেখানে জোর করে হিন্দি চাষ করা হচ্ছে তার দায় টা কি শুধু ইংরেজি শিক্ষা মাধ্যম স্কুল,কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় বা ফ্যাসিস্ট সরকারই নেবেন? নাকি অভিভাবক, বিদ্যজন এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক দল গুলো ও নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেবেন?

কমিউনিস্ট রা এই রাজ্যে শূন্য হবার একটা এফেক্ট কিন্তু আমি এই ভরা পেটেও উপলব্ধি করতে পারি এই কেমন টুক করে রবি টাকে নিয়ে, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে শেখানো আমাদের দেশের জাতীয় ভাষা হিন্দি কে নিয়ে টানাটানি করা শুরু করলাম।পশ্চিম বঙ্গে রাজ্য সরকারি স্কুল গুলোর অবস্থা শিক্ষক,পরিকাঠামো এর অভাবে, ঠিক যে জায়গায় এসে দাড়িয়েছে তাতে অভিভাবক রা যদি ক্রমশ গজিয়ে ওঠা বেসরকারি বা কেন্দ্রের ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গুলোর উপর নির্ভরশীল হয়ে পরে সে বিষয়ে দোষারোপের কোনো অবকাশ নেই, তবে অভিভাবক দের উপর গুপ্ত অভিমান টা তখন হয় যখন কলেজ ফিরতি ভাই টা দুঃখ করে বলে কখনো তার ব্যোমকেশ পড়া হয়নি, শার্লক হোমস এই ঘুরে ট্যুরে বেড়াতে হয়েছে অথচ ও.টি.টি প্ল্যাটফর্ম এর ব্যোমকেশ কাহিনী নাকি তার কাছে রোমহর্ষক অথচ সেই রহস্য উপন্যাস এ লুকিয়ে থাকা শব্দ বন্ধনীরা যে তারুণ্যে কি বিপুল রোমাঞ্চের সঞ্চার করতে পারে,ফোনের পর্দায় আটকে থাকা কত শত বাঙালি হিন্দুস্থানী র মস্তিষ্ক জানতেই পারলো না কারণ তাদের কারুর হয়ত স্কুলে ভর্তির সময়ই বাবা মারা বেছে দিয়েছিল দ্বিতীয় ভাষা হিন্দি তো আবার কারুর তো স্কুলে সেই অবকাশ টুকুও রাখা হয়নি,দ্বিতীয় ভাষার ঘরের পাশে দুর দুরান্তেও বাংলাকে জায়গা দেয়নি।আবার বুকের ভিতর টা দুমড়ে মুচরে যায় যখন ছাত্রের জন্য গল্পের বই কিনতে গিয়ে ডিসপ্লে তে “selected short stories Rabindranath Tagore” টা চোখে পরে।আসতে আসতে আমাদের এই বহু ভাষার,বহু বৈচিত্রের দেশ কি আঞ্চলিক ভাষা আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে নাকি অচিরেই সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই রাজ্যে সুরক্ষিত হবে আমাদের মাতৃ ভাষার অধিকার? প্রশ্নটাই শেষে ঘুরছে মাথায়।
কিন্তু প্রশ্ন টা কার কাছেই রাখবো? আদ্য প্রান্ত ঘুষে ডুবে থাকা একটা সরকারের কাছে? যারা ছিনিয়ে নিতে চায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি কেবল মাত্র মাল্টিপ্লেক্স মালিক কে বেঁচে দেবে বলে,প্রতিদিন যে রাজ্যে অন্তত ৫ টা ছেলে মেয়ে শিক্ষক হবার স্বপ্ন টা চোখের জলে ধুয়ে দিচ্ছে,বিক্রি হয় যাচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা বেসরকারি মুনাফালোভী দের হাতে! প্রশ্ন টা তাদের কাছেই রাখলাম যারা এখনো ভাবছে,এখনও হতাশ হচ্ছে,যারা এখনো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য লড়ছে।
বদল আসুক প্রত্যেকের চেতনায়,বদল আসুক গণনায়।

