গ্রাম থেকে দুরত্ব বাড়ছে লেখাপড়ার
সন্দীপ আচার্য্য
“সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার” আমাদের দেশের সংবিধান আমাদের দিয়েছে। অথচ ২০২৩ সালে এসেও সেই সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করার লড়াই গোটা দেশ জুড়ে প্রতিদিন লড়তে হচ্ছে আমাদের।
এই সময় আমাদের গর্বের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলছে শিক্ষা ব্যাবস্থা কে পঙ্গু করে দেওয়ার আপ্রাণ প্রচেষ্টা।
২০১১ সালের পর থেকেই আমাদের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উঠেছে চোরে দের স্বর্গরাজ্জ্য।
গরু, কয়লা, বলি হয়ে এরা পৌঁছেছে শিক্ষাক্ষেত্রেও প্রতিদিন যোগ্য দের বঞ্চিত করে শুধুমাত্র পয়সার বিনিময়ে মেধা কে বাইপাস করে এরা অযোগ্য দের হাতে তুলে দিচ্ছে শিক্ষকের চাকরি।
শিক্ষা ব্যাবস্থা কে লাটে তুলে দিয়ে শিক্ষা দপ্তরের একাধিক মন্ত্রী – আমলা রা এখন জেলার ভেতর, যেটকু ও বাইরে আছে তারাও দেদার দুর্নীতির সাথে সকাল সন্ধ্যে ঘর করছেন।
প্রতিদিন এরা শিক্ষা কে বিক্রি করে দিতে চাইছে কর্পোরেট, পুঁজিপতি দের কাছে। বিশেষত গ্রাম বাংলায়, যেখানে সাধারন খেটে খাওয়া পরিবারের শিশু দের শিক্ষা লাভের একমাত্র ভরসা সরকারি বিদ্যালয় গুলো। যেকথা অনুভব করেই এই রাজ্যে বামপন্থী দের শাসন কালে উদ্যোগ ছিলো সকলের জন্য “অবৈতনিক শিক্ষা”, সেই সমস্ত পরিকাঠামো আজ ধ্বংসের মুখে। তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার সারা রাজ্য জুড়ে হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর ভবিষ্যৎ ঠেলে দিয়েছে অন্ধকারের দিকে। সরকারি স্কুল গুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব এই রাজ্যে এখন ঘোষিত সত্য, যার ফলে একই শিক্ষক কে একই সাথে বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্র দের শিক্ষা দান করতে হচ্ছে এবং যার ফলস্বরূপ স্বাভাবিক ভাবেই পিছিয়ে পড়ছে ছাত্র ছাত্রী রা। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র পরিবারের যে শিশু টা র দুবেলা খাওয়ার জোগান টুকুই প্রশ্ন চিহ্নের মুখে, এদের মধ্যে একটা বড়ো অংশের শিশুই অপুষ্টির শিকার। তাদের জন্য স্কুল গুলিতে গড়ে তোলা হয়েছিলো মিড ডে মিলের ব্যাবস্থা, যাতে বিদ্যালয় এলে বাড়ন্ত বয়সে ছাত্র ছাত্রী রা অন্তত সঠিক পুষ্টি পায়। এবং এর ফলে তাদের মধ্যে বিদ্যালয় মুখী হওয়ার ইচ্ছে জন্মাবে।মমতা ব্যানার্জী র এই সরকারের বদান্যতায় গোটা পৃথিবীতে হয়তো প্রথমবারের জন্য মানুষ দেখলো সেই শিশু দের মুখের গ্রাস কেড়ে নিলো এই চোর তৃণমূল। মিড ডি মিলের খাবারের জন্য বরাদ্দ করা টাকাও চুরি করে নিচ্ছে এলাকার তৃণমূলের মাতব্বরেরা। স্কুল গুলো তে অভিভাবক দের ভোট দানের যে পদ্ধতি প্রচলিত ছিলো, সেসব বন্ধ করে পরিচালন কমিটির নামে তৃণমূলের স্বজন পোষন ই যেন নতুন নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। যায় ফলে যা হবার তাই হচ্ছে, স্কুল গুলোর পরিকাঠামো ভেঙে পড়ছে। সরকারি স্কুলের ফ্যান খুলে চলে যাচ্ছে তৃণমূলের পার্টি অফিসে, আর কাঠ ফাটা গরমে ছাত্র ছাত্রী রা ক্লাস করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এছাড়াও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বৈচিত্র্য আর ঐতিহ্যের সাক্ষী বিদ্যালয়ের পোশাক। সেই বৈচিত্র্য কে ভেঙে দিয়ে তুঘলকি কায়দায় মাননীয়ার পছন্দের রঙে বেঁধে ফেলতে চাইছে এই রাজ্যের শৈশব কে। পাঠ্য পুস্তকে ভগৎ সিং দের পরিবর্তে প্রতিদিন আন্দোলনকারী বিপ্লবী হিসেবে ঢুকে যাচ্ছে মাননীয়ার সিঙ্গুর আন্দোলন আর চোর পার্থ চ্যাটার্জির নাম।
যখন আইন বলছে, ২44 টাকার বেশি স্কুলের ফিজ নেওয়া যাবে না। তার পরেও প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে ফিজ বৃদ্ধি হচ্ছে, কারন সরকার নিজের প্রতিশ্রুতি মেনে পর্যাপ্ত টাকা স্কুল গুলো কে দিচ্ছে না। যার ফলে স্কুল চালাতে নানা রকম খাতে ছাত্র ছাত্রী দের থেকে পয়সা নিতে হচ্ছে।
যার ফলে যাদের পরিবারের নূন্যতম সামর্থ্য থাকছে, তাদের ঝোঁক বাড়ছে প্রাইভেট স্কুল গুলোর প্রতি। আর যাদের সামর্থ্য নেই তাদের বেরিয়ে আসতে হচ্ছে পড়াশুনোর আঙিনা থেকে, যার ফলে প্রতিদিন লাগিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে স্কুল ছুটের সংখ্যা। আর এই সরকার প্রতিটি বিদ্যালয়ে নুন্যতম ৩০ জন ছাত্র না থাকার অজুহাত দেখিয়ে হাজার হাজার প্রাইমারি স্কুল বন্ধ করে দিতে চাইছে। অন্যদিকে, রাজ্যের নবতম ভাওতা “স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড” এর নাম করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারে বড়ো হওয়া ছাত্রী ছাত্রী দের চোখে থাকা পড়াশুনোর স্বপ্ন কে কাজে লাগিয়ে তাদের ঠকাচ্ছে। যে ভাওতার শিকার হয়ে “তিথি দলুই” কে নিজের জীবন দিয়ে দিতে হলো। সরকার ঠেলে দিলো একজন ছাত্রী কে আত্মহত্যার দিকে। এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও আমরা দেখলাম ৪ লাখ ছাত্র ছাত্রী ছিটকে গেলো শিক্ষার আঙিনা থেকে। অথচ সরকার উদাসীন।
এই পরিস্থিতিতে দাড়িয়ে গ্রাম বাংলার মানুষ মেতে উঠবে গণতন্ত্রের উৎসবে।এতদিন সরকার নিজের হাতে থাকা ক্ষমতার অপব্যাবহার করে চলেছে।
এবার সাধারন মানুষ নিজেদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করবে।
গ্রাম বাংলার মানুষ ভোট দেবে, নিজের বাড়ির ছেলে মেয়ে টা র শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করতে। এই হাই ভোল্টেজ “পঞ্চায়েত ভোট” আসলে গ্রাম বাংলার মেহনতি মানুষ বনাম চোর তৃণমূলের যুদ্ধ। এতো দিন ধরে এই বাংলার ছাত্র – ছাত্রী দের চোখে থাকা স্বপ্ন কেও চুরি করে বিক্রি করেছে এই তৃণমূলের সরকার। আর এই পঞ্চায়েত ভোট প্রমাণ করবে, “চোরের দশ দিন, গৃহস্তের এক দিন।”
এই লড়াইয়ে আমার আপনার বাড়ির ছেলে মেয়ে গুলো, ছাত্রী ছাত্রী, অভিভাবক রা জিতবে। আর তৃণমূল শুধুই হারবে, হারবে আর হারবে!


