মতাদর্শের পথে: বড় হয়ে ওঠা
• বিহান চক্রবর্তী
বামপন্থী পরিবারের জন্ম হওয়ার দরুন ছোটবেলা থেকে দেখছি বাড়িতে রাজনীতি, অর্থনীতি ,কবিতা ,নাটক প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। আর তার থেকেও বেশি যেটা নিয়ে আলোচনা হতো সেটা হচ্ছে গিয়ে মার্কসবাদ সোসালিজম মার্কসীয় দর্শন প্রভৃতি বিষয়। ছোটবেলায় জিনিসগুলো কিছুই বুঝতাম না কথাগুলো শুনতেও বেশ বিরক্ত লাগতো কিন্তু যত বড় হচ্ছি আর বুঝছি এই জিনিসগুলি সমাজের জন্য কতটা প্রয়োজনীয়। আমার মনে পড়ে ভোট আসলে ভোটের সময় আমার বাবা কি করে ভোটের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। বাবা যদিও ট্রেড ইউনিয়ন সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারপরেও আমি দেখেছি কি করে তিনি ভোটের সময় খাওয়া-দাওয়া ভুলে গিয়ে এলাকায় ভোটের কাজে জড়িয়ে পড়তেন। সালটা ২০১৬ তখন আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি শুনি আমার দাদা নাকি এসএফআই করছে । এসএফআই কি মনে কৌতুহল জাগল, মাকে গিয়ে প্রশ্ন করি এসএফআই কি? মা আমাকে বলে এসএফআই হচ্ছে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন এবং তার কলেজ জীবনে এসএফআই করার অভিজ্ঞতা আমাকে জানান। শুনে আমার বেশ ভালো লাগে। পরবর্তী ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা আমাকে বলেন। তখন সবে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছি একদিন আমার কাছে একটি ফোন আসে ফোনের ওপার থেকে নিজের পরিচয় দেন আমার নাম অনিকেত আমি তোমার সঙ্গে একটু দেখা করতে চাই কয়েকদিন পরে আমি এবং আমার কিছু বন্ধু তার সঙ্গে দেখা করি এবং সে আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন এবং ছাত্রদের রাজনীতি করা কেন প্রয়োজন সেই বিষয়ে তিনি আমাদের বুঝিয়ে বলেন ,তিনি এও বলেন ছাত্রদের সমস্যার কথা ছাত্ররা নিজে বলবে। পরবর্তীতে আমি অনিকেত দার আহ্বানে আমার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ছাত্রদের কলেজে ভর্তি হওয়ার ফর্ম ফিলাপ ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করি। পরে আমি আমার দাদুর কাছে গিয়ে এইসব কথা বলি। আমার বাবার মামা সুভাষ মুখার্জী অর্থাৎ আমার দাদু শেষ জীবনে অসুস্থ অবস্থায় আমাদের বাড়িতে থাকতেন উনি ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মহেশতলা এলাকার কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম সংগঠক। ওনার সাথে আমার বিভিন্ন বিষয়ে কথা হতো যেমন দেশ,রাজ্য ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়। সাহিত্য অর্থনীতি রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়ে ও কথা হতো । দাদু আমাকে মৌলিক মার্কসবাদী ও সৃজনশীল সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য উৎসাহিত করতেন। যেই বই পড়তাম সেই বিষয় নিয়ে ওনার সাথে আলোচনা হত । অতীতের দিনে ছাত্র ও যুব সংগঠন গড়ে তোলার নানা অভিজ্ঞতার কথা উনি আমার কাছে বলেন । প্রতিকূল পরিবেশে কিভাবে সংগঠন গড়ে তুলতে হয় এ বিষয়ে কিছু ধ্যানধারণা, আমার মধ্যে উনি সঞ্চারিত করেন। এভাবেই ধীরে ধীরে বাম রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আমার প্রবেশ। এই সময়কালে কলকাতার আর জি কর হসপিটালের নৃশংস ঘটনা যা দেশ ও রাজ্যের মানুষের মনে সরকার বিরোধী ঘৃণার মনোভাব এবং স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন তৈরি হয়েছিল তাতে আমিও সামিল হই। পরবর্তীকালে এই আন্দোলন এবং বর্তমান ছাত্র রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে জেলা ও রাজ্যের ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের সাথে আমার বিভিন্ন সময় কথা ও আলোচনা হয়েছে।
বামপন্থী পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা এবং আমার দাদুর কাছ থেকে মতাদর্শের প্রাথমিক শিক্ষা আমাকে আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাভাবনায় উদ্বুদ্ধ করেছে। বিভিন্ন বিষয়ে যখনই মনের মধ্যে প্রশ্নের আবির্ভাব হয়েছে নেতৃত্বের কাছে এবং বইয়ের পাতায় সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো খুঁজছি। সব প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিষ্কারভাবে পাইনি হয়তো নিশ্চিতভাবে উত্তর খুঁজে পাবো সংগঠনের প্রতিদিনকার কাজের মধ্যে দিয়েই।

