গাইঘাটার শুভম গোবরডাঙা হিন্দু কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। পুরো নাম শুভম বিশ্বাস। অঞ্চলের পাশাপাশি কলেজ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় শুভম। গত ১১ই এপ্রিল ছাত্র-যুব-মহিলাদের ডাকে জেলা পরিষদ অভিযান থেকে গ্ৰেপ্তার হওয়ার পর প্রথমে জেল কাস্টডি, তারপর পুলিশ কাস্টডি ও তারপর আবার জেল কাস্টডিতে ১৪ দিন কাটিয়ে দিল শুভম সহ আরও ১০জন ছাত্র – যুব।
আমরা যোগাযোগ করেছিলাম শুভমের বাবার সাথে। তার সাথে ফোনালাপে কথা বলেন অর্ক মুখার্জি ও সাক্ষাৎকারটর অনুলেখন করেছেন শাম্বদিত্য ঘোষ।
প্রশ্ন:- প্রায় দশ দিন হয়ে গেল ছেলে আন্দোলন করতে গিয়ে জেলে, চিন্তিত না গর্বিত?
উত্তর:- যেহেতু ছেলে আমার, জেল হেফাজতে আছে, সেহেতু বাবা হিসেবে চিন্তা তো স্বাভাবিক ভাবেই হয়। কিন্তু আমি নিজে গর্বিত বাবা হিসেবে যে আমার ছেলে একটা ভালো কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। আজকে আমার ছেলে মানুষের জন্যে কাজ করতে গিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের শিকার হয়েছে। কিন্তু আমার ছেলের এই ধরনের মানুষের কাজ করে বলে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের রোষের শিকার হয়ে জেল হেফাজত হয়েছে। এতে আমি বাবা হিসেবে খুব গর্বিত।
প্রশ্ন :- ভবিষ্যতে আর কখনো এই ধরনের আন্দোলনে ছেলেকে পাঠাবেন? সেক্ষেত্রে আগামীদিনে এই ধরনের আন্দোলন করতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার মধ্যে কি কখনো কোনো ভয়ের সঞ্চার হবে ? যেহেতু এই পরিস্থিতিতে আপনার ছেলে জেলে আছে।
উত্তর :- না ভয়ের তো কারণ নেই। আমার ছেলে (শিবম) তো কোনো অন্যায় কাজ করেনি। অন্যায় কাজ করলে সেক্ষেত্রে আমি ভয় পেতাম কিন্তু আমি কেনো ভয় পাবো? আমার ছেলে মানুষের দাবী দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে জেলে গেছে। এতে আমি ভীত নই বরং একজন বাবা হিসেবে গর্বিত। দীর্ঘদিন ধরে আমি নিজে বামপন্থী সংগঠনের সাথে যুক্ত আছি। এবং আমি জানি যে এই বামপন্থী সংগঠনের কর্মী হওয়া মানে বা বামপন্থী সংগঠন করার অর্থ হলো এই সংগঠনগুলোতে কোনো দুর্নীতি হবে না। যা হবে পুরোটা স্বচ্ছ ও পরিষ্কার।
প্রশ্ন:- ওর সাথে আরও ৯ জন একইভাবে জেলবন্দী। তাদের অভিভাবকদের কিছু বলবেন?
উত্তর :- আমি আমার ছেলের সাথে বর্তমানে যারা মানুষের দাবী দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে শাসকদল তৃণমুল কংগ্রেসের রোষে পড়ে জেল হেফাজতে আছে তাদের বাড়ির অভিভাবকরা যাতে কোনোভাবেই ভীত সন্ত্রস্ত না হয়ে পরে, আন্দোলন থেকে যেনো পিছিয়ে না আসে, এবং আগামীদিনে আরো বৃহত্তর আন্দোলনে মানুষের স্বার্থে যাতে এগিয়ে যায় আমি সেটা বলতে চাই।
প্রশ্ন:- এই বারাসাতে জেলা পরিষদ অভিযানে বেআইনিভাবে ধৃত আপনার ছেলে সহ বাকি কমরেডরা যখন জেল হেফাজতে তখন গণ আন্দোলন, ছাত্র (SFI) , যুব (DYFI) এর পক্ষ থেকে নেতৃত্বরা আপনার পাশে ছিলো?
উত্তর :- এই সময়ে আমার ছেলে সহ বাকি কমরেডরা যখন জেল হেফাজতে তখন আমার সাথে আমার স্থানীয় ও জেলা স্তরের গণ আন্দোলনের নেতৃত্ব, ছাত্র , যুব ‘র জেলা নেতৃত্বরা আমার বাড়িতে আসে , আমাদের সাথে কথা বলে, ও আমাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেয়। একমাত্র বামপন্থী গণ সংগঠনগুলোই হয়তো এইভাবে তার কমরেডদের পাশে থাকে।
প্রশ্ন:- বিনা দোষে দিনের পর দিন জেলে আটকে রাখা হচ্ছে। এই সরকার কতটা স্বৈরাচারী বলে আপনি মনে করেন ?
উত্তর :- ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। বর্তমান সরকার পুরোটা দুর্নীতির উপর চলছে। প্রাক্তণ শিক্ষামন্ত্রী সহ গোটা শিক্ষাদপ্তর জেলে। এই সরকার তার দুর্নীতিকে ঢাকার জন্যে আমার ছেলে সহ বাকি কমরেডদের মানুষের দাবী দাওয়া নিয়ে লড়াই করার ক্ষেত্রে বারংবার বাঁধা সৃষ্টি করছে। এবং ছেলে ও বাকি কমরেড তারাও আমার পুত্রসম তাদের উপর যে এই বেআইনিভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের আটকে রাখছে। ওরা ভাবছে এইভাবে ওরা মানুষের কণ্ঠরোধ করবে কিন্তু সেটা পারবে না।
প্রশ্ন:- এইযে ধরুন আপনার ছেলেকে বেআইনিভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হেফাজতে রাখা হয়েছে এতে করে আপনার পারিপার্শ্বিক মানুষজন এর প্রতিক্রিয়া কি ?
উত্তর :- সামনে পঞ্চায়েত ভোট। মানুষ তৃণমূলের উপর ক্ষেপে আছে। আমার ছেলেকে বেআইনিভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে রাখা হয়েছে এই বিষয়টা নিয়ে আমার আশপাশের লোকজন বেশ ক্ষুব্ধ। তবে এই জিনিসটার ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে তৃণমূলেরই বি টিম বিজেপি । তারা কুৎসা করার চেষ্টা করলেও আমার ছেলের এই মানুষের দাবী দাওয়া নিয়ে লড়াই করার জন্যে আমি আমার শিবমের বাবা হিসেবে খুবই গর্বিত।
প্রশ্ন :- আমাদের বহু ছাত্রনেতা যুব নেতাদের বাড়িতে পুলিশ নিয়মিত ভাবে যাচ্ছে, তাদের খবর নিতে। অনেককে বাড়ির বাইরে থাকতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে আপনার ক্ষেত্রেও এমনটা হতেই পারে। ভয় পাচ্ছেন?
উত্তর :- না আমি ভয় পাচ্ছি না। আর আগামীদিনেও পাবো না। আগেই বলেছি আমি আমার ছেলের জন্যে গর্বিত। আমার ছেলে মানুষের জন্যে কাজ করেছে , আমিও মানুষের জন্যে কাজ করার চেষ্টা করি। এই সময় দাঁড়িয়ে যারা মানুষের জন্যে কাজ করে তাদের উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে , তাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তাদেরকে ভয় দেখানো যায়না। আগামীদিনে এইরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলে হব। তবুও বামপন্থী মতাদর্শ থেকে আমার এবং আমার ছেলের এক ফোঁটাও বিচ্যুতি ঘটবে না।

